রপ্তানি আদেশ না থাকায় পোশাক খাতে স্থবিরতার আশঙ্কা

0
93

garments_exportপোশাক শিল্পে নতুন রপ্তানি আদেশ না থাকায় বিপাকে পড়ছেন শিল্পমালিকরা।রপ্তানির আদেশ না থাকায় নতুন পণ্য উৎপাদনেও এসেছে স্থবিরতা। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনাও করছে। ফলে এই খাতটি আগামি দিনে একটা সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে পরতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রপ্তানি আদেশ বাতিলের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে পোশাক শিল্পের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। কমেছে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্যমতে গেল ২০১৩ সালে রপ্তানি আদেশ কমেছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমেছে। তবে চৈতি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম দাবি করেন এই খাতে রপ্তানি আদেশ কমেছে ৪০ শতাংশ।

কারখানা মালিকরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিগত কয়েক মাস ধরে ঠিক সময়ে পণ্য জাহাজীকরণ করতে পারছেন না তারা। কয়েকগুন খরচ বেশি দিয়ে পণ্য পরিবহন করলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না। ঠিক সময়ে পণ্য না পৌঁছাতে পারায় নাখোশ ক্রেতারা।

তাছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসায়িক নিরাপত্তা না পাওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা তাদের ব্যবসাকে অন্য দেশে স্থানান্তর করছে।

এছাড়া শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বছরে টানা হরতাল-অবরোধে শিল্পটির স্প্লাই চেইন ধসে পড়েছে বলেও মন্তব্য তাদের।

বিজিএমইএ বলছে, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৩৭ দিনই শিল্পটি রাজনৈতিক অস্থরতার কবলে পড়েছে। একদিন উৎপাদন ব্যাহত হলে ২৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয় এই শিল্পে। সেই হিসেবে উৎপাদন বিনষ্ট হওয়ায় প্রায় ৯২৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছে সংগঠনটি।

চৈতি গুরুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম অর্থসূচককে জানান, জুন-জুলাই মাসের রপ্তানি আদেশের কাজ ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে করছেন তারা। রপ্তানি আদেশ কম থাকায় শ্রমিকদের কাজ দিতে পারছেন না তারা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হলেও তিন মাসের একটা বড় দূরত্ব তৈরি হবে। সে সময় রপ্তানি আদেশ ৭০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

আর এমন হলে খাতটিতে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা তার।

মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম অর্থসূচককে জানান, যেসব কারখানার অগ্রিম রপ্তানি আদেশ ছিল তা এখন শেষ হওয়ার পথে। কারখানাগুলো শ্রমিকদের বসিয়ে না রেখে জুন-জুলাই মাসের রপ্তানি আদেশের কাজ এখনই শেষ করে ফেলছেন তারা।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার পাশাপাশি অনেক বড় প্রতিষ্ঠানও সাব কন্ট্রাকের জন্য দৌড়-ঝাঁপ দিচ্ছে। সাব কন্ট্রাক না পেয়ে অনেকে অতিরিক্ত শ্রমিক ছাঁটাই করছে বলে জানান তিনি।

তিনিও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এমন ধারা কাটিয়ে উঠতে না পারলে খাতটিতে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে।

বিকেএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মাদ হাতেম জানান, পোশাক মালিকরা এখন এই শিল্পে টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছে। বিগত কয়েক মাসে পোশাক শিল্পে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তাতে চলতি বছরেও স্বাভাবিক অবস্থানে আসতে পারবে না বলে মনে করেন তিনি।

তবে যদি রাজনৈতিক সংকট উত্তোরণ সম্ভব হয় তবে ২০১৫ সালের শুরুতে পোশাক শিল্প ভালো অবস্থানে আসবে বলে মনে করেন তিনি।