কঠোর পরিশ্রম করেও পেশা ধরে আছে কামাররা

0
366
madaripur

madaripurবয়স প্রায় ৮০ বছর। হাঁটতেও কষ্ট হয়। এখনও হাতুরি পিটিয়ে সাহায্য করছেন ছেলে পলাশ বিশ্বাসকে। বাবা-ছেলে দু’জনের দিনভর পরিশ্রমে কোনো রকমে খেয়ে পড়ে বেঁচে আছে মাদারীপুর শহরের পূর্বরাস্তি গ্রামের এই আদি কামার পরিবারটি।

কালকিনি উপজেলার মিয়ারহাটে নিতাই সরকার (৪৫) ও তার বাবা অমলেশ সরকারকে নিয়ে নানা প্রতিকূলতার পরেও ধরে রেখেছেন বাপ-দাদার এই পেশা। শুধু তারাই নয় মাদারীপুর জেলায় প্রায় ৫ শতাধিক কামার পরিবারের লোকজন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে আজও আঁকড়ে ধরে রেকেছেন তাদের পূর্ব পুরুষের এই পেশাকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার পুরান বাজার, ফাঁসিয়াতলা, গোপালপুর, ঝুরগাঁওহাট, মিয়ারহাট, সমিতিরহাট, শশিকর, মাদারীপুর শহরের পুরান বাজার, সদর উপজেলার মস্তফাপুর বড় বাজার, চরমুগরিয়া বন্দর, কালিরবাজার ও তাঁতি বাড়ি বাজার এবং রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বাজার এবং শিবচরসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও প্রায় ৫’শ কামার পরিবার রয়েছে।

তাদের কামারশালায় ফসল কাটায় ব্যবহৃত কাঁচি, পাট কাটায় বেকী, পাসুন, লাঙ্গলের ফলা, হাতুর, কোদাল, কুড়াল, দা, খন্তা, পান কাটার সর্ত্তাসহ গৃহস্থালি কাজে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করা হয়।

কামাররা জানায়, কাঁচা লোহা ও উৎপাদনের উপকরণ সমূহের মূল্য বৃদ্ধি, উৎপাদিত পণ্যের মূল্য হ্রাস, ইস্পাত নির্মিত মেশিনে তৈরি জিনিসপত্রের সাথে অসম প্রতিযোগিতা এবং অর্থাভাবসহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে কামারশালাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে পৈত্রিক পেশায় নিয়োজিত কামাররা চরম বিপাকে পড়েছে। এতে বাধ্য হয়ে অনেকেই পেশা আঁকড়ে ধরে মানববেতর জীবনযাপন করছেন।

মাদারীপুর শহরের পুরান বাজারের কর্মকার সমিটির সভাপতি কৃষ্ণ কর্মকার জানান, অর্থাভাবে তারা কাঁচামাল ক্রয় করে মজুর লাগিয়েও অতিরিক্ত জিনিস তৈরি করতে পারছে না বলেই কামারদের অভাব কাঁটছে না। সেজন্য তিনি সরকারের কাছে ক্ষুদ্র লৌহজাত এই শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে স্বল্প সুদে এবং সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়ার দাবি জানান।