ঢাবিতে সিনেটের বার্ষিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত

cenit

cenitঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল ২০১৩ সালের সিনেটের বার্ষিক অধিবেশন নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিনেটের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন, কোষাধ্যক্ষ  অধ্যাপক ড. মো: কামাল উদ্দীন ও সিনেটের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক তার ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন,  বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ৬২ ও ৬৯-এর আন্দোলন এবং ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতা আন্দোলন সহ আত্মমুক্তির সকল আন্দোলন ও সংগ্রামের সঙ্গে তার নাম বিশেষভাবে জড়িয়ে আছে। তিনি জাতীয় চার নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের তিরিশ লাখ শহীদের স্মৃতির প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বর্তমান বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে যুগোপযোগী শিক্ষা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য বলেন, একমাত্র শিক্ষাই জীবনের ভিত রচনা এবং মানবসত্তার রূপান্তর ঘটাতে পারে। তিনি বলেন, বিশেষ কিছু জ্ঞান থাকলেই প্রকৃত শিক্ষিত বা প্রজ্ঞাবান হওয়া যায় না। প্রকৃত শিক্ষিত হতে গেলে প্রথমে নৈতিক শিক্ষা অর্জন করতে হবে। রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় জীবনে গণতন্ত্রের যেমন বিকল্প নেই, তেমনি শিক্ষা্র উন্নয়ন বা উৎকর্ষ সাধনে শিক্ষা ব্যবস্থার গণতন্ত্রায়নও জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক চেতনা ও সংস্কৃতি প্রবর্তনের জন্য তিনি শিক্ষকগণের ইতিবাচক ভূমিকা, শিক্ষা লাভের স্বাধীনতা সৃষ্টি ও সমতা বিধান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুশাসন নিশ্চিত করা, জাতীয় ইতিহাসকে গুরুত্বদান এবং শিল্প সংস্কৃতি শিক্ষা ও অনুশীলনের সুযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উপাচার্য বলেন, মানবসভ্যতা সকল মানুষের মিলিত চেষ্টা, তাদের কর্ম ও ধর্মে গড়ে উঠেছে। এ সভ্যতাকে কোনো বিশেষ সময়ের ও বিশেষ মহলের ইতিবৃত্ত বলে দাবি করা যায় না। কিন্তু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে একটি বিশেষ মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছে। ধর্মীয় বিধি বিধান কখনো অন্যায়কে সমর্থন করে না। কিন্তু এই বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে সমাজকে অশান্ত ও মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করছে। সামাজিক সম্প্রীতি, মানুষে মানুষে সংহতি, পারিবারিক বন্ধন ও মমত্ববোধ বিনষ্ট করাই তাদের অভিলাষ। কিন্তু এই বোধে আস্থাশীল গোষ্ঠী আমাদের নারীসমাজকে অসম্মানিত করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। মানুষে মানুষে বৈষম্য সৃষ্টি, নারী-পুরুষের মধ্যে ভেদরেখা টানার ফল কখনো শুভ হয় না। মানব জাতির প্রবৃদ্ধি বিশেষত, মানব শিশুর জন্মদান, লালন ও বিকাশে যাদের অসীম অবদান সেই নারীজাতিকে এভাবে হেয় করলে সমগ্র মানবসমাজকেই অসম্মানিত করা হবে। শিক্ষিত, প্রজ্ঞাবান ও আলোকিত মানুষের এখন নিজেদের অস্তিত্ব ঘোষণা ও তা সংহত করার সময় এসেছে। নীরবতা ভঙ্গ করে কিংবা তথাকথিত নিরপেক্ষতার বর্ম ছুড়ে ফেলে এখন সময় এসেছে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার, জাতীয় জীবনের সকল কলঙ্ক মুছে ফেলার।

উপাচার্যের ভাষণের পর সিনেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: কামাল উদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরের ৩১৪.৫৩ কোটি টাকার প্রস্তাবিত রাজস্ব ব্যয় সম্বলিত বাজেট উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন থেকে প্রাপ্য ২৫৯.৫০ কোটি টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব¯আয় থেকে ৩১.০০ কোটি টাকা অর্থাৎ মোট ২৯০.৫০ কোটি টাকার আয় ধরা হয়েছে। ফলে এ অর্থবছরে বাজেটে ঘাটতি হবে আনুমানিক ২৪.০৩ কোটি টাকা।