নরসিংদীতে ফসলি জমির হুমকি ইটভাটা

0
41
Narsingdi-Mati

Narsingdi Maati Picture 04নরসিংদীতে অবাধে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। স্থানীয় দালাল ও ইটভাটার মালিকরা কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে নামমাত্র মূল্যে কিনে নিয়ে যাচ্ছে এসব উর্বর মাটি।

দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় মাটির উর্বরা শক্তি কমে যাচ্ছে। চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে জেলার শত শত হেক্টর কৃষিজমি।

কৃষি বিভাগ জানায়, কৃষি সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে নরসিংদী জেলার অবস্থান অন্যতম। এখানকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য চাহিদা মেটাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জেলার ছয়টি উপজেলার কৃষি জমির উর্বর মাটি ইটা তৈরির জন্য অবাধে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটাগুলোতে। জেলার ছয়টি উপজেলার ১শত ২৫ টি ইটভাটার দালাল ও ইটভাটার মালিক কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে নামমাত্র মূল্যে কিনে নিয়ে যাচ্ছে এসব উর্বর মাটি। এভাবে অবাধে  মাটি কাটা অব্যাহত থাকায় জমির উর্বরা শক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বহুলাংশে কমে যাচ্ছে ইরি-বোরো ধান ও শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন। চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে জেলার শত শত হেক্টর কৃষিজমি ।

সরেজমিন শিবপুর উপজেলার পুটিয়া, পলাশ উপজেলার গজারিয়া, সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, মাটি কাটার শ্রমিক দিয়ে উর্বর কৃষিজমি থেকে অবাধে মাটি কেটে ট্রলি দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটাগুলোতে। একইভাবে জেলার ৬টি উপজেলা জুড়ে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব।

পলাশ উপজেলার গজারিয়া এলাকার কৃষক বাচ্চু মিয়া বলেন, চলাচলে নিষেধ থাকলেও ইটভাটার মাটি ভর্তি ভারী ট্রাক, মিনি ট্রাক, ট্রলি চলাচল করায় গ্রামীণ রাস্তাঘাটগুলো ভেঙ্গে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

একই এলাকার অপর কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, একজন কৃষক মাটি বিক্রি করলে পাশের জমির মালিকরাও ভাঙ্গনের আশংকায় মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে কৃষিজমির পরিমাণ কমে ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক মো: মুকছেদ আলী বলেন, আবাদী জমির উপরিভাগের মাটি কাটার ফলে ফসলের প্রধান খাদ্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস, আয়রন, জিংক, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়ামসহ বিভিন্ন জৈব উপাদানের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেওয়ায় ফসল উৎপাদন কমে আসে। মাটি কাটা বন্ধে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকরা সচেতন হলেই অবাধে মাটি কাটা রোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

কৃষি জমি থেকে অবাধে মাটি কাটা বন্ধ করা না গেলে জেলার ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে এমন আশংকা স্থানীয় সচেতন মহলের।

কেএফ