চট্টগ্রাম বন্দরের আয় বেড়েছে

0
199

ctg_portসামগ্রিক ভাবে কর ও শুল্ক থেকে দেশের রাজস্ব আয় চলতি বছর বেশ কমেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়কর জমা দানের সময় কয়েক দফায় বাড়িয়েও লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশ পিছিয়ে আছে।দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতায় পণ্য পরিবহনে ব্যঘাত ঘটেছে। ফলে বন্দরগুলো দিয়ে পণ্য আনা নেওয়াও ছিল কম।ফলে ওই খাত থেকেও কমেছে রাজস্ব।

তবে সামগ্রিক এই মন্দাবস্থার মধ্যেও আমদানি রাপ্তানি বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরে ২০১২ সালের  তুলনায় গেল বছরে আয় বেড়েছে ১৮ কোটি ১১ লাখ টাকা।

বন্দর কতৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ২০১২ সালে যেখানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৫৬৪ কোটি ২ লাখ টাকা সেখানে গেল বছর অর্থ্যাৎ ২০১৩ সালে আয় হয়েছে ১হাজার ৫৯২ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন বলেন, ‘গেল বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা  ও সহিংসতার কারণে পণ্য খালাসে সমস্যা হলেও বন্দরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সচল থাকায় নেতিবাচক কোনো প্রভাব পরেনি।’

হরতাল ও অবরোধের মতো নাশকতার ঘটনা না ঘটলে বন্দরের কার্যক্রম আরও বৃদ্ধির পাশাপাশি আয়ও বাড়তো বলে মনে করেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, দেশের আমদানি-রপ্তানির  ৯০ শতাংশের বেশী পরিচালিত হওয়া এ বন্দর দিয়ে গেল বছর ১৫ লাখ টিইইউএস(প্রতি ২০ বর্গফুট হিসাবে) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করার মাধ্যমে পণ্য হ্যান্ডলিং হয় প্রায় চার কোটি টন । যা গেল বছরের চেয়ে ৫ শাতাংশ বেশী ।

এবছর পণ্য হ্যান্ডলিংকৃত আয় ছাড়াও নদীতে মুরিংভাড়া, জাহাজ চলাচল, জেটি ভাড়া ও পানি বিক্রিসহ আরো কিছ খাত থেকে অর্থ আয় করেছে বন্দর।

গেল বছর চট্টগ্রাম বন্দর সর্বমোট আয় করে ১ হাজার ৫৯২ কোটি ১৩ লাখ টাকা । বন্দরে কর্মরত  কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা, জাহাজ ক্রয়, যন্ত্রাংশ আমদানি ও অন্যান্য খরচ বাবদ বন্দরের খরচ হয় ৭২৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা । এর মধ্যে কয়েক বছর জুড়ে বকেয়া থাকা হোন্ডিং ট্রাক্স বাবদ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে  এককালিন ১২২ কোটি টাকা পরিশোদ করা হয়েছে।

বন্দর সচিব আশা প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় সেবা খাত হয়েও বন্দরের এমন আয় জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।

চট্টগ্রাম বন্দর অর্থ উপার্জনকারী কোন খাত হয়ে নয় বরং সেবা প্রতিষ্ঠান হিসাবে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন তিনি।