সুদ মওকুফ ও ঋণ পুন:তফসিলের সুযোগ চান পরিবহণ ব্যবসায়ীরা

0
115

Transport_Press_Conরাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবহন মালিকরা সুদ মওকুফ ও ঋণ পুন:তফসিলের সুযোগ দাবি করেছে। একই সঙ্গে তারা হরতাল-অবরোধের নামে নাশকতাকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এ খাতের নেতারা দাবি করেছেন, গত এক বছরে হরতাল-অবরোধে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ প্রায় এক হাজার যান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভাংচুরের কবলে পড়েছে সাড়ে তিন হাজার যান। এতে তাদের ১৩০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি ও বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন মালিকরা এই কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খনদকার এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের পরিবহন খাত প্রায় ধ্বংসের দারপ্রান্তে এসে দাঁড়েয়েছে। দিনের পর দিন গাড়ি বন্ধ থাকার কারণে মালিকেরা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না।

নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির কারণে অনেক মালিকরাই ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে বহু পরিবহন মালিক দেউলিয়া ও ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে।

এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামিতে বেসরকারি পরিবহনের মালিকরা এই ব্যবসায় টিকতে পারবে না। আবার কেউ নতুন করে বিনিয়োগও করবে না বলে মনে করেন তিনি।

এই বিষয়টি বিবেচনায় এনে যে সব মালিক অক্টোবর-২০১২ হতে আজ পর্যন্ত ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে তাদের সুদ মওকুফ ও ব্যাংক ঋণ পুনর্তফসিলীকরণ সুবিধা প্রদানের জন্য তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিকট আবেদন জানান।

তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতায় এ পর্যন্ত ৫৫ জন শ্রমিককে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। হরতাল অবরোধে বাস, ট্রাক মিনিবাস, ট্রাক, মিনিবাস, ট্যাংক লরি ও কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ থাকলে পরিবহন সেক্টরে দৈনিক প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয় বলে জানান তিনি। সেই হিসেবে এই খাতে পরিবহন বন্ধের কারণে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, বেসরকারি খাতে তিন লাখ গাড়ির সঙ্গে প্রায় ২৫ লাখ পরিবার জড়িত রয়েছে। আর তাতে নির্ভরশীল হয়ে আছে এক কোটিরও বেশি মানুষ।

সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে পরিবহন খাতে নাশকতার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা পেয়েছেন। তবে পরিবহন মালিকদের ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় সর্বোচ্চ সাড়ে তিন লাখ করে টাকা নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চেক ইস্যু করা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য সরকারিভাবে এই পর্যন্ত ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আর পরিবহন সমিতির পক্ষ থেকে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। যা থেকে পরিবহণ মালিকদের ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় সর্বোচ্চ ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

তবে এর বাইরে ২০১১ সালে সরকারি ভাবে সহায়তা হিসেবে ১২ লাখ টাকা পেয়েছিল বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী খান, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সোহেল তালুকদার, বাস পরিবহন মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আবুল কালাম, শ্যামলী পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ ও হাসান ইমাম উপস্থিত ছিলেন।