অবশেষে ৫ শতাংশের নিচে নামলো স্প্রেড

bb_buildingঅবশেষে ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের মধ্যকার সুদহারের গড় ব্যবধান (স্প্রেড) ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তবে দেশি, বিদেশি, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ও বিশেষায়িত ৫৫ টি ব্যাংকের মধ্যে ২৪ টি ব্যাংকের স্প্রেড এখনও ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অক্টোবর ভিত্তিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জোর তদারকিতে কিছুদিনের মধ্যে এসব ব্যাংক স্প্রেড কমাতে বাধ্য হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় ৪ ব্যাংক গ্রাহকদের কাছে থেকে আমানত সংগ্রহ করেছে ৭.৭৪ শতাংশ হারে এবং ঋণ দিয়েছে ১০.৯৯ শতাংশ হারে। এসব ব্যাংকের গড় স্প্রেড ৩.২৫ শতাংশ। এর মধ্যে রূপালী ব্যাংকের স্প্রেড ব্যবধান ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। অক্টোবর শেষে ব্যাংকটির স্প্রেড আছে ৫.৩০ শতাংশ।

 

বিশেষায়িত চারটি ব্যাংকের গড় স্প্রেড রয়েছে ২.৮৮ শতাংশ। ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করেছে ৯.৮৫ শতাংশ হারে এবং ঋণ দিয়েছে ১২.৭৩ শতাংশ হারে। এ ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেসিক ব্যাংকের স্প্রেড রয়েছে ৫.২৭ শতাংশ।

নতুন কার্যক্রম পরিচালনা করা ৮ টি ব্যাংকসহ ৩৮ টি ব্যাংকের গড় স্প্রেড রয়েছে ৫.২০ শতাংশ।ব্যাংকগুলো গড় আমানত সংগ্রহ করেছে ৮.৯৫ শতাংশ হারে এবং ঋণ দিয়েছে ১৪.১৫ শতাংশ হারে। এসব ব্যাংকের মধ্যে ১৬ টি ব্যাংকের স্প্রেড রয়েছে ৫ শতাংশের ওপরে। এর মধ্যে এবি ব্যাংক লিমিটেডের ৫.২৮ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেডের ৬.০৮ শতাংশ, পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের ৫.২৮ শতাংশ, উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডের ৫.৯৫ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ৫.৩৩ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের ৬.৬৩ শতাংশ, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ৫.০৩ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের ৫.০৪ শতাংশ, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ৫.৪২ শতাংশ, ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের ৮.২৮ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের ৫.৯৮ শতাংশ, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের ৫.৮৩ শতাংশ, প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের ৬.২৩ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের ৫.৭৭ শতাংশ, যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের ৬.২১ শতাংশ এবং ব্র্যাক ব্যাংকের রয়েছে ৯.৪০ শতাংশ।

বিদেশী বাণিজ্যিক ৯ টি ব্যাংকের স্প্রেড রয়েছে ৮.৪৮ শতাংশ। তারা গ্রাহকদের কাছে থেকে আমানত সংগ্রহ করেছে ৫.১৯ শতাংশ হারে এবং ঋণে সুদ নিয়েছে ১৩.৬৭ শতাংশ হারে। এর মধ্যে ৬ টি ব্যাংকের স্প্রেড এখনও বেশি রয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো স্টান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের রয়েছে ১০.২৪ শতাংশ, হাবিব ব্যাংক লিমিটেডের ৫.১০ শতাংশ, সিটি ব্যাংক এনএ-এর ৮. ৭৫ শতাংশ, কমার্সিয়াল ব্যাংক অব সিলনের ৬.৬০ শতাংশ, ওরি ব্যাংকের ৯.৭৯ শতাংশ এবং এইচএসবিসি ব্যাংকের স্প্রেড সীমা রয়েছে ৭.৬১ শতাংশ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, স্প্রেডের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খুবই সতর্ক রয়েছে। যেসব ব্যাংকের স্প্রেড বেশি আছে সেগুলোকে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে প্রতিযোগীতা মূলক বাজারে এখনও কিছু ব্যাংকের বিশেষ করে বিদেশী ব্যাংকের স্প্রেড বেশি রয়েছে। তবে তারা আগামিতে স্প্রেড আরও কমাতে বাধ্য হবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের মধ্যকার সুদহারের ব্যবধান কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১২ সালের শুরুর দিকে স্প্রেড ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের মধ্যে সীমিত রাখার নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনা কার্যকরের গত দেড় বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে শুধু চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাস ছাড়া আর কখনও গড় স্প্রেড সীমার মধ্যে ছিল না। আর ওই সময়েও বেসরকারি ও বিদেশি মালিকানার বেশিরভাগ ব্যাংকের স্প্রেড ছিল বেশি। মূলত আমানতে সুদহার কমলেও ঋণে না কমার কারণে এটি হয়েছে বলে জানা গেছে।