মালয়েশিয়ায় এক বছরে গেলেন মাত্র ১১৪৯ শ্রমিক

0
103
kuala-lumpur-malaysia
কুয়ালালামপুর

কুয়ালালামপুরদীর্ঘদিন পর মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার খুললেও সুফল পাচ্ছে না বাংলাদেশ। গত এক বছরে মাত্র ১ হাজার ১৪৯ জন শ্রমিক পাঠাতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সর্বশেষ তিনমাসে পাঠাতে পারেনি কোন শ্রমিক। বাংলাদেশ সরকারের সাথে জি টু জি চুক্তির মাধ্যমে মালয়শিয়া এদেশ থেকে কয়েক বছরের মধ্যে পাঁচ লাখ শ্রমিক নেওয়ার কথা।এমনটি অব্যাহত থাকলে সম্ভাবনাময়ী এ শ্রম বাজার চলে যেতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশের হাতে এমনটা আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা ।

বাংলাদেশ জনশক্তি রপ্তানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যানুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে থেকে শ্রমিক রপ্তানি বন্ধ থাকার পর ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর মালয়শিয়া সরকারের সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তির আলোকে তারা একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর ১০ হাজার শ্রমিক নেওয়ার চাহিদাপত্র পাঠায়। মালয়েশিয়া সরকারের চাহিদানুযায়ী সরকারিভাবে নিবন্ধন করে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। চাহিদাপত্র আসার ৪ মাস পর ২০১৩ সালের এপ্রিলে ১৯৮ জন শ্রমিককে মালয়শিয়া পাঠানোর মাধ্যমে শুরু হয় দেশটি জনশক্তি রপ্তানি।কিন্তু ৪ মাস পর শুরু করে এক বছর সময় অতিক্রান্ত হলেও এই দীর্ঘ সময়ে চার কিস্তিতে মাত্র এক হাজার ১৪৯ জন শ্রমিক সেদেশটিতে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে মন্ত্রনালয়। এদের মধ্যে আবার ফিরে এসেছেন বেশ কয়েকজন। তাছাড়া চুক্তি ভঙ্গ করে অন্যত্র পালিয়ে গেছেন দু’জন শ্রমিক। আর শ্রমিক রপ্তানির এ প্রক্রিয়া বন্ধ আছে গত তিন মাস যাবৎ।

বিএমইটি সূত্র আরও জানায়,২০১২ সালে মালয়েশিয়া সরকার কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতে ১০ হাজার কর্মীর চাহিদা পাঠিয়ে চিঠি দিয়েছিল। চিঠিতে তারা এ ১০ হাজার শ্রমিককে সফলভাবে পাঠাতে পারলে কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আরও ৫ লাখ শ্রমিক নিতে আগ্রহী বলে জানায়। কিন্তু সেদেশের সরকার পরিবর্তন ও বাংলাদেশের রাজনীতির অস্থিরতার কারণে তাদের চাহিদাপত্রের মাত্র এক হাজার ১৪৯ জন শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

এদিকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে এই ধীরগতিকে মন্ত্রণালয়ের অবহেলা, সরকারের কুটনৈতিক দুর্বলতা ও সেদেশের কোম্পানিগুলোর সাথে সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার নেতারা। তারা জানান, চাহিদানুযায়ী জনশক্তি রপ্তানি করতে না পারলে বাংলাদেশের পরিবর্তে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো এ সুযোগ কাজে লাগাবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ হারাবে দেশের জন্য আগামির সম্ভাবনাময় এক শ্রম বাজার।

এ বিষয়ে বায়রার মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী জানান, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানিতে কৃষি, নির্মাণ ও বাগানের কাজসহ বিভিন্ন কাজে জরুরিভিত্তিতে কয়েক লাখ শ্রমিক প্রয়োজন। কিন্তু সরকার জি টু জি চুক্তি করে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে নাম মাত্র কিছু শ্রমিক পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। মন্ত্রণালয় অবহেলা করে বাংলাদেশের এ শ্রম বাজার হাতছাড়া করছে। সরকার জি টু জি চুক্তি না করলে বায়রা এই এক বছরে ২ লাখ শ্রমিক পাঠাতে সক্ষম হতো বলে দাবি করেন তিনি।

বায়রার দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন মালয়েশিয়া জনশক্তি প্রেরণ সংক্রান্ত সেলের প্রধান ও বিএমইটির পরিচালক মো.নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সাথে চুক্তি হওয়ার পরই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যত দ্রুত সম্ভব প্রাথমিক চাহিদা পত্রের ১০ হাজার শ্রমিককে সেদেশে পাঠাতে। তবে সেদেশের নির্বাচন ও সরকার পরিবর্তন এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার জন্য জনশক্তি রপ্তানি কিছুটা কম হয়েছে। তাছাড়া কয়েকজন শ্রমিকের পালিয়ে চলে আসা সেদেশের কোম্পানির কাছে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে আমরা যোগাযোগ অব্যহত রেখেছি অতি শিগগিরই ২ হাজার শ্রমিক পাঠাতে পারবো। আর এ প্রক্রিয়া এখন ধারাবাহিকভাবে চলবে। এখানে অবহেলা কিংবা কুটনৈতিক দুর্বলতার কোনো সুযোগ নেই।