শুরুর দিনে শুন্য মেলা প্রাঙ্গন

0
68
দর্শনার্থী শুন্য বাণিজ্যমেলা

দর্শনার্থী শুন্য বাণিজ্যমেলাপ্রথম দিনেই নিরুত্তাপ ১৯তম বাণিজ্য মেলা। প্যাভিলিয়ন ও স্টল তৈরির কাজে ব্যস্ত নির্মাণ শ্রমিকেরা।হাতেগোনা কয়েকজন দর্শক ঢিলেঢালাভাবে ঘুরে দেখছেন মেলা। প্রতিবছর প্রথম দিনেই মেলায় দর্শকের উপচে পড়া ভীড় থাকলেও এ বছর তা লক্ষ্য করা যায়নি। তবে স্টল মালিকরা ও দর্শক কিংবা ক্রেতাদের জন্য এখনও পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত হতে পারেনি। এখনও সিংহভাগ প্যাভিলিয়ন ও স্টলে কাজ চলছে।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, কিছু কিছু স্টল সাজানোর কাজ শেষ করলেও সব কিছু যেন গুছিয়ে উঠতে পারেনি তারা। আবার প্রথম দিনে মেলায় আসা দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে দেখছেন স্টলগুলো। বহু দোকানের বিক্রেতারা দলে দলে মেলা ঘুরে দেখছেন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও দল বেধে স্টল ঘুরে দেখতে দেখা গেছে।

ইফাদ মাল্টি প্রোডাক্টস লিমিটেডের ব্রান্ড এক্সিকিউটিভ কাজী মোহাম্মাদ নাজমুল হক প্যাভিলিয়নের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। জিজ্ঞেস করতেই কাজের ফাঁকে তিনি অর্থসূচককে বলেন, হরতাল অবরোধে মিস্ত্রি আনতে পারিনি। এই জন্য শুরুর দিনেও শুরু করতে পারলাম না। তবে রোববারের মধ্যেই প্যাভিলিয়ন তৈরির কাজ সম্পন্ন হবে জানান তিনি।

প্রথম দিনে দর্শনার্থী কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমনিতেই মানুষ এখনও আতংকে আছে। ভয়ে বাইরে বের হচ্ছে কম। তবে মেলার দ্বিতীয় সপ্তাহে দর্শক সমাগম বাড়বে বলে মনে করছেন তিনি।

দুবাই কালেকশান, শাহী ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল, হাজী জুয়েলারি, আরএফএল, রিচফুড, লিয়ন চা, কেএসবি বস্ত্র, মদীনা প্রোডাক্টস, এলসন ফুডসহ বহু প্যাভিলিয়নের তৈরি কাজ শেষ হয়নি। এসব প্যাভিলিয়নে কাজে ব্যস্ত মিস্ত্রিদের একজন বরকতউল্লাহ।

হাতুড়ি দিয়ে ঠক ঠক শব্দে কাজ করছেন তিনি। তিনি জানান, অন্য বছরে একটু আগে ভাগে কাজ শেষ হয়ে যায়। তবে এবার একটু দেরিতে শুরু করায় এখনও শেষ হয়নি। তবে দুই দিনের মধ্যে স্টল তৈরির কাজ শেষ হবে বলে মনে করেন তিনি।

মেলার এই বেহাল দশার কারণ জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো সচিব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির অর্থসূচককে জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে শুরু করতে পারা যায়নি। তবে সব কিছু ঠিক থাকলে এবার মেলায় দর্শনার্থীর ভীড় বেশি থাকবে বলে মনে করছেন তিনি।

অবরোধের মাঝেও এবারের মেলা জমছে বলে আশা করেন তিনি। তিনি আরও জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মেলাকে ঘিরে রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বেস্টনী।

এর আগে বেলা ১২টায় মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেলায় দেশিও পণ্যের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান  ইরান, চিন, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর মালেশিয়াসহ ১২ দেশের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।
এবারের মেলায় প্রিমিয়ার প্যাভেলিয়ন ৯৬, মিনি প্যাভেলিয়ন ৪৯, সাধারণ স্টল ৩১৬ ও ১০টি রেস্টুরেন্টসহ মোট ৪৭১টি স্থাপনা থাকছে।

বিভিন্ন স্টলে রকমারি সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, জুয়েলারি, খেলনা, পাটজাত পণ্য, কার্পেট, কসমেটিকস, স্টেশনারি, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা, সিরামিকস পণ্য, মেলামাইন বস্ত্র, আসবাবপত্র, হস্তশিল্প ও তৈজসপত্রসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শিত হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৪ জানুয়ারি প্রথম দিনে শুরুর কথা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তা ১০ দিন পিছানো হয়। যা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে।