টমেটোর যত গুণ!

0
182

gtomato‘টমেটো’কার না প্রিয়।ছোট-বড় সব মানুষেরই পছন্দের খাবার টমেটো সবজি।নানা ভাবে আমরা ‘টমেটো’ খেয়ে থাকি। কেউ কাঁচা খেতে পছন্দ করেন আবার কেউ কেউ সালাদ বা রান্না করে খেতে ভালবাসেন। যাহোক যে যেভাবেই খাইনা কেন, আসুন জেনে নেই শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী ‘টমেটো’র পুষ্টিগুণ।

একশ গ্রাম টমেটোতে যে উপাদানগুলো রয়েছেঃ
ভিটামিন এ-১০০০আই ইউ,ভিটামিন সি-২৩ মিলি গ্রাম,ক্যালসিয়াম-১১ মিলি গ্রাম, লৌহ-০.৬ মিলি গ্রাম, ফসফরাস-২৭ মিলি গ্রাম,পটাশিয়াম-৩৬০ মিলি গ্রাম, প্রোটিন -১ গ্রাম, গ্লুটাসিক অ্যাসিড-১০০-১৪০ গ্রাম, শক্তি-২০ ক্যালরি, পানি-৯৪%
টমেটোর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাঃ

টমেটো হৃদরোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে থাকে। ত্বকের সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে, রক্তক্ষরণ বন্ধ,এবং রক্তের কোলেষ্টরল কমাতে টমেটো বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কম ফ্যাট এবং কম ক্যালোরির টমেটো যে কোনও বয়সের মানুষের জন্যই উপকারি। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং মিনারেল থাকার কারণে নিয়মিত টমেটো খেলে স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে শুরু করবে। আর টমেটোর অন্যতম উপাদান হলো লাইকোপিন। টমেটো যত লাল, লাইকোপিন ততই বেশি। খুব শক্তিশালী একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে লাইকোপিনের রয়েছে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা। টমেটোর গুণের ফিরিস্তি শুনে টমেটো খাবার ইচ্ছে হতেই পারে। খাবারে টমেটোর পুষ্টি বেশি করে আনার রয়েছে কিছু কৌশল। আসুন সেগুলো দেখে নেওয়া যাক।

কাঁচা টমেটো

  • রান্না না করে টমেটো খাবার একটাই উপায় আমাদের জানা আছে আর তা হলো সালাদ। বেশ করে ধনেপাতা, মরিচ, বিভিন্ন মশলা সহযোগে টমেটোর সালাদ যে কোনও খাবারের সাথেই খেতে পারেন। ভাবছেন শুধু Tomatoভাতের সাথে খাবেন? তা কেন? পোলাও, রুটি, নান, পরোটা এসবের সাথেও চমৎকার লাগে টমেটোর সালাদ। এভাবে খেলে টমেটোর পুষ্টি যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি চর্বিযুক্ত মাংস খাবার বদলে সালাদ বেশি করে খেলে যারা ওজন কমাতে চান তারাও উপকার পাবেন।
  •   সালাদ ছাড়াও টমেটোর জুস তৈরি করে খেতে পারেন। শুধু টমেটো অথবা অন্যান্য সবজি মিশিয়েও তৈরি করতে পারেন পুষ্টিকর জুস। অনেকে এর সাথে চিনি মিশিয়ে খেতে পছন্দ করেন, অনেকে আবার চিনির বদলে একটু লবণ মিশিয়ে খান। হালকা খিদে পেলে জাঙ্কফুড না খেয়ে এমন একগ্লাস জুস খেয়ে নিলে পেটও ভরবে, শরীরেরও উপকার হবে।
  • টমেটোর জুস খেয়ে পেট ভরবে না, এমনটা চিন্তা করলে টাটকা টমেটো দিয়ে তৈরি করতে পারেন স্যান্ডউইচ। এতে বিভিন্ন রকমের মশলা দিতে পারেন। তবে মাখন বা মেয়নেজ ব্যবহার করবেন না অবশ্যই।
  • এত কিছু না করে শুধুই টমেটো চিবিয়ে খেয়ে নিতে পারেন। আপেল যেভাবে খাওয়া হয় সেভাবে অথবা টমেটো কেটে নিয়ে খেতে পারেন। রাত জেগে কাজ করার সময় এমন একটা টমেটো কেটে রাখতে পারেন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে এক টুকরো করে খেতে থাকলে ক্ষুধা কোথায় যাবে টেরই পাবেন না।
  • রান্ন করা টমেটো
  • মাছ রান্নায় তো বটেই, মাংস রান্নাতেও টমেটো ব্যবহার করতে পারেন অন্যরকম স্বাদের জন্য। আর সবজি রান্নার সময় অন্য সবজির সাথে দিয়ে দিতে পারেন টমেটো। তেলের সাথে রান্না করলে যেহেতু টমেটোর পুষ্টিগুণ বেড়ে যায়, সুতরাং এভাবে খেলে ক্ষতি নেই, বরং উপকার বেশি। একই ভাবে টমেটোর চাটনিও তৈরি করতে পারেন।
  • বেগুন যেভাবে ব্যবহার করা যায়, টমেটোও অনেকটা সেভাবে ব্যবহার করা যায়। বেগুনের মত করে টমেটো হালকা পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে তৈরি করতে পারেন মজাদার ভর্তা।
  •   বিভিন্ন রকম খাবারের স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত হয় টমেটো কেচাপ কিন্তু দোকান থেকে কেনা কেচাপে থাকে বিভিন্ন রকমের কৃত্রিম উপাদান। তার চাইতে বাসায় টমেটো কেচাপ তৈরি করে রেখে দিন। যখন টমেটোর দাম একটু কমতির দিকে থাকে তখন একবারে বেশি করে কিনে কেচাপ বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। রান্নাতেও ব্যবহার করতে পারবেন। একই ভাবে টমেটোর চাটনিও তৈরি করতে পারেন।
  •   বেশি করে টমেটো দিয়ে স্যুপ তৈরি করতে পারেন। সকালের নাস্তায় এই স্যুপ অসাধারণ। ওজন কমাতে ইচ্ছুক যারা তারা অল্প তেল দিয়ে এই স্যুপ খেতে পারেন নিয়মিত।