‘ফুকুশিমার অভিজ্ঞতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’

0
201
রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নকশা
রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে (আইইবি) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ডিভিশন আয়োজিত ‘এনার্জি সিকিউরিটি ইন বাংলাদেশ এন্ড দ্যা রুল অব নিউক্লিয়ার পাওয়ার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ইয়াফেস ওসমান বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে জাপানের ফুকুশিমার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হবে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রাশিয়ার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ভিভিইআর ব্যবহার করা হবে।

তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ তৈরির দিক থেকে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ৩১তম দেশ।

রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ ও জনবসতির উপর কোনো প্রভাব পড়বে না উল্লেখ করে ইয়াফেস ওসমান বলেন, এই প্রকল্পে কোন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে জনগণকে জানানো হবে।

এ সময় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশে নিজস্ব উদ্যোগে দক্ষ জনবল ও বিজ্ঞানী তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ অ্যাটোমিক এনার্জি কমিশনের সদস্য প্রকোশলী এম আলী জুলকারনাইন জানান, ইতোমধ্যে রূপপুরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবকাঠামোগত কাজ শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালের মধ্যে মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কাজ শুরু হবে।

ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে তৃতীয় প্রজন্মের নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ প্রযুক্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থা হবে পাঁচস্তর বিশিষ্ট। সম্প্রতি প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতে এ প্রযুক্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও তৃতীয় প্রজন্মের নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে শীতলীকরণ ব্যবস্থা। পদ্মায় পানি প্রবাহ এক কিউবিক মিটার থাকলেও তা দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের শীতলীকরণ ব্যবস্থা চালু রাখা যাবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে অ্যাটোমিক এনার্জি কমিশনের এ সদস্য বলেন, চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বর্জ্য ফেরত নেবে।

আইইবির চেয়ারম্যান প্রকোশলী অধ্যাপক ড. আব্দুর রশিদ সরকারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সভাপতি প্রকোশলী অধ্যাপক ড. এম. শামীম জেড বসুনিয়া, সচিব প্রকোশলী নিয়াজ উদ্দীন ভুঁইয়া, প্রমুখ।

জেইউ/এসএম