৫৪ ঘণ্টা পর তেলবাহী ট্যাংকার উদ্ধার

0
88
ship
ফাইল ছবি
ship
মঙ্গলবার ভোরে ডুবে যায় তেলবাহী জাহাজ ওটি সাউদার্ন স্টার-৭। (ফাইল ছবি)

প্রায় ৫৪ ঘণ্টা পর সুন্দরবনের শেলা নদীতে ডুবে যাওয়া তেলবাহী ট্যাংকার সাউদার্ন স্টার-৭ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ জোবায়দা-৩, জোবায়দা-৪, জ্বলন্ত ও ডিবি রাইজিং-৩ মিলে ডুবে যাওয়া ট্যাংকারটি তীরে নিতে সক্ষম হয়েছে।

তেলবাহী জাহাজের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মের্সাস হারুণ অ্যান্ড কোং এর ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, তিনটি কার্গো জাহাজ ও স্থানীয় ডুবুরিদের সহায়তায় দেশীয় পদ্ধতিতে ডুবন্ত জাহাজটিকে তারা তীরের দিকে টেনে নেন।

সন্ধ্যার মধ্যেই জাহাজটি খুলনা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ জানান তিনি।

তবে উদ্ধারের পর জাহাজের ট্যাংকার থেকে কতখানি তেল বের হয়ে গেছে তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার ভোররাত ৪টার দিকে বাগেরহাটের সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের শেলা নদীর মৃগামারী এলাকায় নোঙরে থাকা তেলবাহী জাহাজ এম. টি সাউদার্ন ওটি-৭ আরেকটি তেলবাহী জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায়। জাহাজটিতে সাড়ে ৩ লাখ লিটার তেল ছিল।

ট্যাংকারটি গোপালগঞ্জের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য খুলনার পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার তেল নিয়ে শেলা নদীতে যাত্রাবিরতি করেছিল।

দুর্ঘটনার ফলে এ তেল শেলা নদীসহ আশেপাশে এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন পরিবেশবিদরা।

তেল ছড়িয়ে পড়া এলাকাটি সরকার ঘোষিত ডলফিনের অভয়ারণ্য। এ ছাড়া সুন্দরবন ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য এবং জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি।

এই জাহাজ ডুবির ঘটনায় বনবিভাগের পক্ষ থেকে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের মামলা করা হয়েছে। চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক বেলায়েত হোসেনকে প্রধান করে প্রাথমিকভাবে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

সুন্দরবনের মতো স্পর্শকাতর এলাকয় তেলবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ ঘটনায় সুন্দরবনের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা অনুসন্ধানে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশে আসতে পারে।

এদিকে মংলা বন্দরের বোর্ড সদস্য কমোডর এম শাহজাহান সকালে জাহাজ উদ্ধার ও পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে জানান, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রওনা হওয়া জাহাজ কান্ডারি-১০ হিরণ পয়েন্টে পৌঁছে গেছে।

জাহাজটিতে ১০ হাজার লিটার তেলের দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম রাসায়নিক ‘ওয়েল ডিসপারসেন্ট’ রয়েছে। কান্ডারি-১০ থেকে এই রাসায়নিক ছিটিয়ে দেওয়া হবে পানিতে ভাসমান তেলের ওপর।