ব্যবসাবান্ধব ও প্রবৃদ্ধি সহায়ক ভ্যাট আইন দরকার

0
113
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘ভ্যাট-সম্পুরক শুল্ক আইন:২০১২ বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ’ গোল টেবিল আলোচনায় উপস্থিত বক্তারা।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘ভ্যাট-সম্পুরক শুল্ক আইন:২০১২ বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ’ গোল টেবিল আলোচনায় উপস্থিত বক্তারা।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘ভ্যাট-সম্পুরক শুল্ক আইন:২০১২ বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ’ গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থিত বক্তারা। ছবি: কেকে নয়ন

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজস্ব আহরণ বাড়াতে নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) আইনের বিকল্প নেই। তবে এ ভ্যাট আইন অবশ্যই ব্যবসাবান্ধব ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি সহায়ক হতে হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘ভ্যাট-সম্পুরক শুল্ক আইন: ২০১২ বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোল টেবিল আলোচনায় এ মন্তব্য করেন দেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদরা।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে নতুন ভ্যাট আইনের চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবায়নের অসঙ্গতি তুলে ধরেন সংস্থাটির গবেষক ড. তৌফিক-উল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে প্রস্তুত করা প্রথম ভ্যাট আইনটি আন্তর্জাতিক ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের সাথে কিছুটা অসঙ্গতিপূর্ণ। তাই আইনটি নতুন করে করা জরুরি। এ লক্ষে প্রণীত নতুন ভ্যাট আইন-২০১২ তে ৪টি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান আইনে ভ্যাট আহরণে সরকারই পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। নতুন আইনে এ ধরনের অসঙ্গতি থেকে ব্যবসায়ীরা মুক্ত হবেন। তবে ভ্যাট প্রদানে ট্রায়াঙ্গল পদ্ধতি বাতিল করে সিঙ্গেল পদ্ধতির প্রবর্তন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য প্যাকেজ ভ্যাট বাতিল হওয়ায় কিছুটা বিপাকে পড়বেন ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে নতুন আইনে বকেয়া ভ্যাট আদায়ে এনবিআরকে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসেব জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হবেন এবং অনেক সময় এ ক্ষমতার অপব্যবহার হবে বলে মনে করেন তিনি।

আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, রাজস্ব আহরণ বাড়াতেই ভ্যাটের প্রচলন হয়েছে। এশিয়ার যে দেশেই ভ্যাট প্রনয়ণ করা হয়েছে সেখানেই রাজস্ব বেড়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে এর প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ভ্যাটের যে হার রয়েছে তা এশিয়ার যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি। ভ্যাটের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আহরণের চিন্তার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের কথা ভাবতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. জাহিদ হোসাইন বলেন, ভ্যাট তো ব্যবসায়ীরা দেয় না। তারা শুধু ভোক্তাদের কাছে থেকে আদায় করেন। তাহলে নতুন আইন নিয়ে তাদের এতো উদ্বেগ কেন। শুধু ভ্যাট নয় রাজস্ব আহরণের যে কোনো মাধ্যমই ব্যবসাবান্ধব না হয়ে উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি সহায়ক হওয়া উচিত।

পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউশনের (পিআরআই) সভাপতি আহসান এইচ মনসুর বলেন, ভ্যাট আইন প্রস্তুতের শুরু থেকেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা সব সময়ই ব্যবসার কথা ভাবেন। তবে ভ্যাট আইন অবশ্যই দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার চিন্তা মাথায় রেখেই করতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনিবআর) সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইনে ১৫ শতাংশ পরোক্ষ কর নির্ধারণ করা হলেও সেখানে প্যাকেজ ভ্যাট, ট্রায়াঙ্গল পদ্ধতিসহ বেশ কিছু বিষয়ের কারণে তা ব্যবসায়ীদের ওপর বোঝা হয়নি। তবে আয়কর ও ভ্যাটের মধ্যে একটি সমন্বয় নিয়ে আসলে এ সমস্যা থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, আগের ভ্যাট আইনে উৎপাদন পর্যায়ে মূল্য নির্ধারণ করে তা আদায় করা হতো। নতুন আইনে বিক্রি করে তারপর ভ্যাট আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে ক্যাশ মেমো সংরক্ষণ না করলে ভ্যাট আদায় বাধার মুখে পড়বে।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দেশের ব্যয় নির্বাহ এবং বড় বাজেটের ক্ষেত্রে অর্থের প্রয়োজন। অন্য রাষ্ট্র যেভাবে অর্থ আদায় করে আমরাও একইভাবে অর্থ আদায় করি। আর তা হল ভ্যাট। এটি একটি উত্তম চর্চা। যা নতুন কিছু নয়।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য, গবেষনা পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, এনবিআরের ভ্যাট নীতির সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, সুপ্র’র পরিচালক এলিসন সুব্রত বাড়ৈইসহ প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদরা বক্তব্য রাখেন।

এইউ নয়ন