ট্যানারি সরাতে অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ

0
101
hajaribag-tannery
hajaribag-tannery
ফাইল ছবি

রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরে অর্থায়নই এখন বড় চ্যালঞ্জ। অর্থ জোগাড় করতে না পারার কারণে অনেকেই ট্যানারি সরানোর কাজ শুরু করতে পারেননি। আর আগামীতে কোনোভাবে অর্থের যোগান হলে হাজারীবাগের সব ট্যানারি সাভারে স্থানান্তর করতে অন্তত দুই বছর লেগে যাবে বলেও বলছেন ট্যানারি মালিকরা।

হাজারীবাগের সব ট্যানারি সাভারে স্থানান্তর করতে ২০০৩ থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়; যার ব্যয় ধরা হয় ১০৭৮.৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনুদান বাবদ ধরা হয় ২৫০ কোটি টাকা। আর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), ডাম্পিং ইয়ার্ড, এসটিপি, এসপিজিএস ও এসডব্লিউএমএস নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬৩৮.৭৯ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য উন্নয়ন ও রাজস্ব ব্যয় ধরা হয় ১৮৯.৯২ কোটি টাকা।

মোট বরাদ্দ ১০৭৮.৭১ কোটি টাকার মধ্যে অনুদান ছাড়া অবশিষ্ট ৮২৮.৭১ কোটি টাকার ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৬৬২.৯৭ কোটি টাকা ইক্যুইটি (সরকারি বিনিয়োগ) এবং বাকি ২০ শতাংশ অর্থাৎ ১৬৫.৭৪ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে সরকার হতে দেওয়া হবে। ঋণ হিসেবে প্রদত্ত অর্থ ট্যানারি মালিকদের নিকট থেকে আদায় করা হবে।

প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমির মধ্যে সিইটিপি হবে ১৭ একরের ওপর। সেখানে ২০৫টি প্লটের মধ্যে শিল্প ইউনিট হবে ১৫৫টি। এর মধ্যে ১৫২টির লে-আউট প্লান দাখিল করা হয়েছে এবং ১৪৭টি অনুমোদন পেয়েছ। বাকিগুলো অনুমোদনের অপক্ষোয় রয়েছে।

প্রকল্পের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্প্রতি কথা হয় বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়ার এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবু তাহেরের সঙ্গে।

অর্থসূচককে তিনি বলেন, স্থানান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার মূল কারণ মালিকদের কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকা। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মালিকদের জন্য ঋণ নেওয়ার একটা প্রক্রিয়া চলছে। এই অর্থের ব্যবস্থা করতে পারলে স্থানান্তর প্রক্রিয়া গতি পাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১৩৩টি ট্যানারির অবকাঠামো নির্মাণে ৩৪০০ কোটি টাকা ও মেশিনারিজ আমদানিতে ১৮০০ কোটি টাকা ঋণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই টাকা পেলে আমরা ট্যানারি স্থানান্তর করতে পারবো।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, ট্যানারি মালিকরা তাদের নিজেদের প্রয়োজনে কারখানা সরাবেন। ইতোমধ্যে বহু ট্যানারি মালিক তাদের কারখানা সরানোর কাজ শুরু করেছেন। তবে এজন্য সময় লাগবে।

আইউব ব্রাদার্স নামের একটি ট্যানারির পরিচালক বেলাল হোসেন বলেন, হাজারীবাগে ৩শ’র বেশি ট্যানারি আছে। এর মধ্যে ২০ থেকে ২৫টির মালিক নিজের পয়সায় কারখানা সরানোর কাজ শুরু করেছেন।

হাজারীবাগের অধিকাংশ ট্যানারি মালিক ব্যাংক ঋণে জর্জরিত- একথা জানিয়ে তিনি বলেন, ঋণ পাওয়াটাই এখন বড় সমস্যা। আবার সরকারি সহায়তা নিয়েও সমস্যা হয়েছে। ছোট-বড় উভয় ধরনের কারখানা মালিকই সমান সুবিধা পাচ্ছেন। এতে বড় বড় কারখানার মালিকরা বিপাকে পড়েছেন।

আইউব ব্রাদার্স পরিচালক বেলাল বলেন, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহায়তা পেলেও হাজারীবাগ থেকে সব কারখানা সাভারে সরিয়ে উৎপাদনে যেতে অন্তত দুই বছর লাগবে।

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিচালক সিরাজুল হায়দার দাবি করেন, সিইটিপির কাজ প্রায় ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে। যেভাবে কাজ চলছে তাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সমাপ্ত করা সম্ভব বলে আশা করেন তিনি।

সিরাজুল হায়দার জানান, প্রকল্পের কাজ ২০১৫ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার কথা। তবে ইঞ্জিনিয়াররা মার্চের মধ্যেই তা সম্পন্ন করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি জানান, অনুমোদিত লে-আউট প্লান অনুযায়ী কারখানা নির্মাণ কাজ শুরু ও সমাপ্ত করার জন্য প্রকল্প কার্যালয় থেকে বিভিন্ন সময়ে ১৮ বার তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে শর্তানুযায়ী প্লট বাতিল করা হবে বলে সতর্কও করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, অর্থের অভাবে মালিকরা ট্যানারি সরাতে না পারলে বর্জ্যের অভাবে সিইটিপি অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। আর সিইটিপি অকার্যকর হলে পরিবেশগত সমস্যা হতে পারে।