দ্রুত রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স দাবি

0
100
baytul mokarram
বায়তুল মোকাররমে জামাতের তাণ্ডব-ফাইল ছবি
baytul mokarram
বায়তুল মোকাররমে জামাতের তাণ্ডব-ফাইল ছবি

দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে জানিয়ে বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) দ্রুত তা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে বিশেষ টাস্কফোর্সও চায় সুপ্র।

বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংস্থার নেওয়ার্কিং ও মোবিলাইজেশন বিভাগের সহযোগী সমন্বয়কারী দিল আফরোজ দ্যুতি।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৮ হাজার ৯৩৩ জন মানুষ। এর মধ্যে নিহত ১৮১ জন আর আহত ৮ হাজার ৭৫২ জন। রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে দিন দিন মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। এই রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে।

নির্বাচনকালীন সহিংসতা বন্ধে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ উপ-কমিটি গঠনের দাবিও জানান তিনি।

বাংলাদেশে প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে- অভিযোগ করে দিল আফরোজ বলেন, দেশে শান্তি, নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, লিঙ্গবৈষম্য এবং নারী ও শিশু পাচারসহ সবক্ষেত্রে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ২০১৪ সালে ৫২৭ জন নারী বিভিন্ন ধরনের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে নির্যাতনের কারণে মৃত্যু বরণ করেছেন ৫৪ জন নারী।

গত দশ বছরে প্রায় ৩ লাখ নারী ও পুরুষ পাচার হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও যথাযথ আইনী ব্যবস্থা ও প্রয়োগে যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কর্মকাণ্ডে হতাশা প্রকাশ করে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রর নেওয়ার্কিং ও মোবিলাইজেশন বিভাগের সহযোগী সমন্বয়কারী দিল আফরোজ বলেন, মানবাধিকার রক্ষায় এই কমিশন বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রেই এই কমিশন হতাশার পরিচয় দিয়েছে।

স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ না থাকা, লোকবল সংকট ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাবেই সংগঠনটি সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না বলেও জানান তিনি।

এ সময় সুপ্রর বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন তিনি। এগুলো হলো: জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করে এমন সব নীতিমালা সংশোধন করা, সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারীর সম্মান নিশ্চিত করাসহ যারা নারীর প্রতি সহিংসতা করছে তাদের বিচারের আওতায় আনা, সীমান্তরক্ষীদের নারী ও শিশু পাচার রোধে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা, হিন্দু বিবাহ আইনের কার্যকর প্রয়োগ ও উত্তারাধিকার আইন প্রণয়ন করা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার পরিচালক এলিসন সুব্রত বাড়ৈ, সদস্য শরীফা খাতুন, সেফার ওয়ার্ল্ডের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিভাস চক্রবর্তী প্রমুখ।

জেইউ/