দুঃখ প্রকাশেও রেহাই মেলেনি, আজীবন নিষিদ্ধ লুৎফর

0
99
Lutfor-Rahman
লুৎফর রহমান বাদল (ফাইল ছবি)
Lutfor-Rahman
লুৎফর রহমান বাদল (ফাইল ছবি)

নিজের করা কিছু অশোভন মন্তব্যের বিষয়ে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আক্রোশ থেকে রেহাই পেলেন না সফল সংগঠক ও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ক্লাবের কর্ণধার লুৎফর রহমান বাদল।আজ মঙ্গলবার রাতে বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি জরুরী বৈঠক ডেকে তাকে সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে।তার আগে বিকালে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়।

ক’দিন আগে বিসিবি এবং এর কয়েকজন কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতি ও পক্ষপাত নিয়ে লুৎফর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আর এটি করতে গিয়ে তিনি কয়েকটি ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করেন। এতে উত্তপ্ত হয়ে উঠে দেশের ক্রিকেট অঙ্গন।সোমবার তিনটি পৃথক সংগঠনের ব্যানারে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে তাকে ক্রিকেটসহ সব ধরনের খেলা থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে অশোভন ও অশালীন ভাষায় চালানো হয় আক্রমণ।অন্যদিকে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে কয়েকশ লোক বাদলের বিরুদ্ধে মিছিল করে। স্টেডিয়াম ও বিসিবি কার্যালয় ছেযে যায় তার বিরুদ্ধে লেখা ব্যানার ও ফেস্টুনে। অভিযোগ উঠে খোদ বিসিবির ইন্ধন ও প্রশ্রয়ে এতসব ঘটনা ঘটেছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতির অবনতির আশংকায় মঙ্গলবার লুৎফর রহমান বাদল তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘চলতি প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে আমার দল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ মাঠে ও মাঠের বাইরের নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হওয়ায় গত ৪ ডিসেম্বর বিকেএসপিতে প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ শেষে আমি তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় আবেগপ্রবণ হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বেশ কিছু মন্তব্য করেছি ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি। এতে যদি ক্রিকেটাঙ্গনের কেউ দুঃখ ও কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে আমি সেদিনের আবেগপ্রবণ মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আশা করছি, আমার এই দুঃখ প্রকাশের মধ্য দিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে চলতি সব ধরনের উত্তেজনা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিদ্বেষের অবসান ঘটবে।’

বিসিবি প্রধান ও গণমাধ্যমে পাঠানো হয় ওই বিবৃতি। তবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিদ্বেষের অবসান ঘটবে এমন আশা প্রকাশ করলেও বাস্তবে সেটি হয়নি। বিসিবির আক্রোশ থেকে রেহাই পাননি লুৎফর। মঙ্গলবার তাকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে ক্লাবের যুগ্ম সচিব তরিকুল ইসলামকে পাঁচ বছরের এবং আরেক কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ রুবেলকে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।