ঝুলে আছে জাল টাকার ৫৭৬৯ মামলা

0
215
fake note
ছবি সংগৃহীত
fake note
ছবি সংগৃহীত

সাক্ষীর অভাবে জাল টাকার (দেশি জাল নোট) ৫ হাজারেরও বেশি মামলা ঝুলে আছে। কারণ এসব মামলার সাক্ষীরা বেশিরভাগই ভাসমান; যারা ভুল ঠিকানা ও ফোন নাম্বার ব্যবহার করে থাকে। যথাসময়ে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এর ফলে আদালত বারবার এসব মামলার দিন ধার্য করলেও বিচার কাজ হয় না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিনের ব্যবহার, সেমিনার, অঞ্চলভিত্তিক তথ্যচিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কাজের পাশাপাশি অভিযানের ফলে জাল টাকার বিস্তার অনেক কমেছে; কমেছে এ সংক্রান্ত মামলাও।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জাল টাকার ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা ৫ হাজার ৭৬৯টি। অধিকাংশ মামলাই নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না সাক্ষীর অভাবে। আর এ বছরের শুরু থেকে অক্টোবর পর্যন্ত জাল টাকার মামলা হয়েছে ১০৯টি। যেখানে গত বছরে মামলা হয় ৩১১টি।

২০১৩ সালের ৩১১টি মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ৯০টি। আর ২০১৪ সালের ১০৯টি মামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ২৮টি। সব মিলিয়ে এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা পৌঁছেছে ৫ হাজার ৭৬৯টিতে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, বেশিরভাগ মামলার ক্ষেত্রেই সাক্ষী খুজে পাওয়া যায় না। কারণ জাল টাকার মামলার সাক্ষীরা বেশিরভাগই ভাসমান। যারা সাক্ষী হয় বেশিরভাগই ভুল ঠিকানা ও ফোন নাম্বার ব্যবহার করে থাকে। এজন্য আদালত বারবার এসব মামলার দিন ধার্য করলেও বিচার কাজ করতে পারে না।

জাল টাকা প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জাল টাকা প্রতিরোধে প্রতিনিয়তই সনাক্তকারী মেশিন প্রদান করছি। এগুলো বেশ সস্তা হওয়ায় মানুষের চাহিদাও এখন বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন অঞ্চলকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে সেমিনারের আয়োজন করে থাকে জানিয়ে ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, এসব সেমিনার নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে করা হয়। জেলাভিত্তিক তথ্যকেন্দ্রগুলো বিভিন্ন জাল নোটের ওপর বিশেষ তথ্যচিত্র দেখায়। ব্যাংকগুলোও জাল নোট ও ভালো নেটের বিবরণ মানুষের সামনে টাঙিয়ে রাখে।এতে করে মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। যে কারণে ধীরে ধীরে জাল নোটের বিস্তার কমে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহনগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ছানোয়ার হোসেন বলেন, মানুষের ভেতর সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাল টাকা সনাক্তকরণের মেশিনের সংখ্যা বেড়েছে। আমরা নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে চক্রগুলোর নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়েছি। ফলে তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে; কমে গেছে তাদের কার্যক্রম। এ কারণে জাল টাকার বিস্তার কমে গেছে।

সাক্ষীর অভাবে জাল টাকার মামলা ঝুলে থাকে স্বীকার করে তিনি বলেন, স্পটে যাদেরকে সাক্ষী হিসেবে রাখি তারা আর কোর্টে সাক্ষী দিতে হাজির হয় না।

উল্লেখ্য, জাল টাকার মামলায় সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এস রহমান/এজে