‘বিশ্বজিৎ হত্যার রায় কার্যকরে দীর্ঘসূত্রিতা মানবাধিকার লঙ্ঘন’

0
83
D. Mizan
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার বিচার এবং রায় কার্যকরে দীর্ঘসূত্রিতা মানবাধিকার লংঘন। এ বিষয়ে রাষ্ট্রকে জবাবদাহিতায় আনতে হবে।

Biswajit
বিশ্বজিৎ হত্যার ফাইল ছবি

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এসোসিয়েশন ফর ল রিসার্চ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এলার্ট) আয়োজিত ‘বিশ্বব্যপী মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং এর প্রতিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি কথা বলেন।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে দর্জি দোকানী বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে হত্যা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ ঘটনায় দায়ের মামলায় ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ২১ আসামির মধ্যে ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। তাদের মধ্যে ৮ জন কারাগারে এবং বাকিরা ‘পলাতক’।

গোলটেবিল বৈঠকে রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে ড. মিজান বলেন, জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি মানবাধিকারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আপনারা স্বার্থসিদ্ধির রাজনীতি বন্ধ করুন। নতুবা দেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, সততা, মানবসত্ত্বার মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার অর্থাৎ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বাংলাদেশের জন্ম। তাই কারো মানবাধিকার যাতে লঙ্ঘন না হয় সে ব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানবাধিকার এক নয়। খুন, গুম, ধর্ষণ, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। কিন্তু এসব ঘটনার পর কোন ভুক্তভোগী যদি রাষ্ট্রের কাছে এর সঠিক প্রতিকার না পায় তখনই মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়।

দেশে মানবাধিকার সংগঠনের নামে ব্যবসা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাদৃশ্য নাম ব্যবহার করে ব্যবসা শুরু করেছে। এ বিষয়ে সরকারকে অবগত করেও ন্যায্য বিচার পাওয়া যায়নি।

সংখ্যালঘুদের প্রসঙ্গে ড. মিজান বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশে ৩৪ শতাংশ সংখ্যালঘু থাকলেও এখন তা ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। এর কারণ এবং সরকারের পদক্ষেপগুলো কমিশন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই রিপোর্ট আকারে প্রকাশ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। তবু এতে তারা মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। অথচ তারা সারাবিশ্বে হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, শিশু হত্যা করছে; সে বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আমাদের মানবাধিকার নিয়ে তাদের সমালোচনা কতটা গ্রহনযোগ্য সেটা এখন বিবেচনার বিষয়।

এসময় বক্তারা বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানকে সাম্প্রদায়িক করা হয়েছে। তাই সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং বিসমিল্লাহ রেখে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক দেশ গড়া সম্ভব নয়।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মনোরঞ্জন ঘোষালের সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান, এলার্টের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম খান, অধ্যাপক দূর্গাদাস ভট্টাচার্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাস গুপ্ত, বাংলাদেশ মাইনরটি ওয়াচের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ প্রমুখ।

এমআই/এমই/