লুৎফরকে ঘায়েল করতে মরিয়া বিসিবি!

0
85
Sujon
Sujon
সংবাদ সম্মেলনে কাজী নাবিল আহমেদ ও খালেদ মাহমুদ সুজন

ক’দিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন সফল ক্রিকেট সংগঠক এবং লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের কর্ণধার লুৎফর রহমান বাদল। আর তাতে ফুঁসে উঠেছে ক্রিকেট অঙ্গনের সুযোগসন্ধানী আর সুবিধাবাদী অনেকে। আজ সোমবার ৩টি আলাদা সংগঠনের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা অশ্লীল শব্দের বন্যা আর কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে পুরো ক্রিকেট অঙ্গনে কালিমা ছড়িয়ে দিয়েছেন। সেদিন তাৎক্ষণিক ক্ষোভ প্রকাশে লুৎফর রহমান বাদল কয়েকটি অশোভন শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন, যা অনেকেই পছন্দ করেনি। কিন্তু সোমবার সবাই যেন অশালীনতার  প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন।

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট ক্লাবস অ্যাসোসিয়েশন, ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব), বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যান্ড স্কোরার্স অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ আয়োজনে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কোয়াবের হয়ে বক্তব্য রাখেন খালেদ মাহমুদ সুজন, হান্নান সরকার, ক্রিকেট ক্লাবস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে কাজী নাবিল আহমেদ। তারা লুৎফরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রেখে তাকে ক্রীড়াঙ্গন থেকে বহিষ্কারের দাবী জানান।

অন্যদিকে বিসিবি ভবনের কঠোর নিরাপত্তাকে ‘বুড়ো আঙ্গুল’ দেখিয়ে কাল সেখানে রাজনৈতিক ধারায় চলে লুৎফর রহমানের বিপক্ষে নানা শ্লোগান। কয়েক ডজন উঠতি বয়সি তরুণের ওই শ্লোগান-মিছিলে নেতৃত্ব দেয় বিসিবির জনৈক কর্মচারী। বিসিবি ভবন, স্টেডিয়ামের প্রধান ফটক ও সীমানাপ্রাচীর ভরে যায় লুৎফরের বিরুদ্ধে লেখা শ্লোগান সম্বলিত ব্যানারে।

সব দেখে ক্রীড়াঙ্গন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিসিবির ইন্ধনেই ঘটছে ন্যাক্কারজনক এসব ঘটনা। সংস্থার কর্তা ব্যক্তিদের উস্কানি না থাকলে বিসিবি ভবনের নিরাপত্তা ভেঙ্গে কারো পক্ষে ভেতরে এসে মিছিল করা সম্ভব নয়। তাছাড়া মিছিল শেষে শ্লোগানধারী তরুণদের ভুরিভোজন করানোর আয়োজন থেকেও এটা স্পষ্ট, বিসিবির প্রশ্রয়েই এসব ঘটেছে।

সংবাদ সম্মেলনে কাজী নাবিল বলেন, ‘নানা সময়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ন্যক্কারজনক কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত লুৎফর রহমান বাদল বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের একজন কুলাঙ্গার সংগঠক। আমরা বাদলের মতো একজন হীনম্মন্য কুলাঙ্গার ও তার দল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে বাংলাদেশের ক্রীড়াজগৎ থেকে বহিষ্কার করার জন্য ক্রীড়ামন্ত্রী, উপমন্ত্রী মহোদয় ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। বহিষ্কার করা না হলে আমরা যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।’

সংবাদ সম্মেলনে কোয়াবের পক্ষে বক্তব্য পাঠ করেন কোয়াবের সদস্য হান্নান সরকার। বক্তব্যে  তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে একজন ঠিকানাবিহীন ক্রিকেট সংগঠক লেবাসধারী বাংলাদেশ ক্রিকেটের সুস্থ পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারায় লিপ্ত। ক্রিকেটের স্বার্থে এসব আবর্জনা এখনই স্বমূলে উৎপাটন করতে হবে।’

কোয়াবের বক্তব্যে লুৎফর রহমানকে ‘আবর্জনা’ বলা নিয়ে খালেদ মাহমুদের ব্যাখ্যা, ‘যে লোকটা ওই ধরনের কথা বলতে পারে, তাকে আমরা আবর্জনা বলতেই পারি। আবর্জনা বলেই একজন সাবেক অধিনায়ককে অমন কথা বলতে পারে। একসময় আবর্জনাই ছিল, এখন হয়তো অনেক টাকার মালিক হয়ে নিজেকে বড় ভাবছে।’

কদিন আগে বিকেএসপিতে এক ম্যাচ শেষে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামের ওপর হামলার চেষ্টা নিয়ে খালেদ মাহমুদ শোনালেন ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের বয়ান।

 “বিসিবির কোনো লোক নেই, যারা গিয়ে অমন কাণ্ড করবে। এটা মনে হয় ষড়যন্ত্রের ব্যাপার। মিরপুরে অনেক লুঙ্গি পরা লোকও খেলা দেখতে আসে। কারা করেছে ওটা বলতে পারব না। হয়তো তারা করে তারাই বিসিবির ওপর দোষ চাপাচ্ছে।”

সব মিলিয়ে ক্রীড়াঙ্গন সংশ্লিষ্টরা  মনে করছেন  পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, লুৎফরকে ঘায়েল করতে মরিয়া ক্রিকেট বোর্ড।