‘উন্নত দেশে পোশাক কারখানায় দুর্ঘটনার খবর মিডিয়ায় আসে না’

0
104
Apparel Summit
প্রথম বারের মতো ঢাকা অ্যাপারেল সামিট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩ দিনব্যাপি এ সামিট চলবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ছবি অর্থসূচক।
Apparel Summit
প্রথম বারের মতো ঢাকা অ্যাপারেল সামিট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩ দিনব্যাপি এ সামিট চলবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ছবি অর্থসূচক।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে তাজরীন ও রানা প্লাজার দুর্ঘটনাকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেও পোশাক কারখানায় দুর্ঘনায় মানুষ মারা যায়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ায়ও বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে কিন্তু তারা প্রকাশ করে না।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা অ্যাপারেল সামিটের দ্বিতীয় দিনে শেষ সেশনে ‘সামাজিক প্রভাব: বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হতে পোশাকখাত কি সাহায্য করতে পারে’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছি না। তারপরও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের দেশে কারখানা গড়ে তোলার জন্য বিদ্যুতের কোনো সমস্যা নেই। তবে গ্যাসের কিছুটা সমস্যা আছে। আমরা এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, পোশাক রপ্তানি খাতে বিজিএমইএ যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তা অর্জন সম্ভব। অতীতে আমরা অনেক সমস্যা মোকাবিলা করে এ পর্যন্ত এসেছি। আশা করি এ সময়ের মধ্যে আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবো।

মোহাম্মাদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হকের সঞ্চালনায় সেমিনারের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক নেতা তৌহিদুর রহমান, জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর উইমেনে’র পরিচালক মেলানি ভারভির, গ্যাপের কর্মকর্তা উইলমা বি ওয়ালাস, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য হন জন ল্যাববার্ট।

সেমিনারে স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ যদি মধ্যম আয়ের দেশ নাও হতে পারে তবে সে লক্ষ্য অর্জনের পথে থাকবে। কারণ বাংলাদেশের জিডিপি বাড়ছে, মূল্যস্ফীতি কমছে, মাথাপিছু আয় বাড়ছে, জীবনমান উন্নত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার এ খাতের উন্নয়নে সব সময় কাজ করছে। এ শিল্পের জন্য বিভিন্ন সময় প্রণোদনা দিয়েছে। শ্রম আইন সংশোধন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে, শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা করেছে। সুতরাং এ খাতের অগ্রযাত্রা ঠেকানো সম্ভব হবে না।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জন করা সম্ভব। স্বাভাবিক গতিতে  রপ্তানি করতে পারলে ২০২১ সালে মধ্যে পোশাক খাতে রপ্তানি আয় ৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারবে; যা মধ্যম আয়ের দেশ হতে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারবে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তিনি শ্রমিক দক্ষতা উন্নয়ন ও কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে আগামী ১০ বছর পোশাক শিল্পের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মেলানি ভারভির বলেন, শক্তিশালী অর্থনীতি প্রভাব ফেলে সামাজিক অবস্থার ওপর। এজন্য সামাজিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। নারী শ্রমিকদের অধিকার ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। শ্রমিকদের মাঝে বিদ্যমান সমস্যা দূর করতে হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে এ শিল্পে দক্ষ শ্রমিক ব্যবহার করতে হবে। শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি ঘটাতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে হবে। গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। কারণ টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর। এটা না থাকলে গণতন্ত্র টিকে না, মানবাধিকার থাকে না।

আতিউর রহমান বলেন, বিজিএমইএ যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তা অর্জন করা সম্ভব। লক্ষ্য অর্জনে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ খাতকে সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে।

এসইউএম/এসরহমান/ এসএম