পোশাক খাত রক্ষায় সজাগ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0
77
hasina
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- ফাইল ছবি

তৈরি পোশাক খাতকে ধ্বংসের তৎপরতায় লিপ্ত দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ঢাকা অ্যাপারেল সামিট’ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এই সামিট ও এক্সপো’র আয়োজন করে।

Apperal summit 4
রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা অ্যাপারেল সামিটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য আগামী দিনের রোডম্যাপ প্রণয়নে ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এক্সপো ফর বিল্ডিং অ্যান্ড ফায়ার সেফটি-২০১৪’ এবং ‘সেন্টার ফর বাংলাদেশ এ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রির’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। কিন্তু অনেকে এটা পছন্দ করে না। এ জন্য তারা এ খাতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, যেকোনো সমস্যা সমাধানের সামর্থ আমাদের রয়েছে। এ জন্য আমি এই খাত রক্ষায় দেশি-বিদেশি সব চক্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে গার্মেন্ট মালিক, শ্রমিক, বিদেশি ক্রেতা ও ভোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাই।

গার্মেন্ট খাতের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে তৈরি পণ্যের দাম বাড়াতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অনেক ক্রেতা ও তাদের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন। পণ্যের দাম বাড়ালে শ্রমিক ভাই-বোনেরা সাচ্ছ্বন্দময় জীবনযাপন করতে পারবেন। তখন সবাই উন্নয়নের অংশীদার হবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার তৈরি পোশাকের বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও জাপান জিএসপি’র রুলস অব অরজিন শিথিল করেছে। এসব পদক্ষেপের ফলে ভারতে ৪৬টি পণ্য এবং চীনে ৯৮ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ। রপ্তানিকারকদের উচিত, তৈরি পোশাকের নতুন বাজার অনুসন্ধান করা। এ প্রয়াসে সরকার আপনাদের পাশে থাকবে।

বিজিএমই সভাপতি আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ.এইচ. মাহমুদ আলী এবং শ্রম ও জনশক্তি প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজিএমই- এর ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন চৌধুরী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সেকেন্ড ভাইস-প্রেসিডেন্ট এস.এম. মান্নান কচি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন- জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি অব ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পার্লামেন্টারি স্টেট সেক্রেটারি হেনস-জোয়েচিন ফুচেল, ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট ডেলিগেশন ফর রিলেশনস উইথ দ্যা কান্ট্রিজ অব সাউথ এশিয়ার চেয়ারপার্সন জেন ল্যাম্বার্ট, অ্যালাইয়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স ফর সেফটির চেয়ারম্যান এলেন তুসচার ও এইচএসবিসি ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ফ্রাঙ্কোইচ দি মেইকো প্রমুখ।

সূত্র: বাসস

এমই/