অপহরণের ১ সপ্তাহ পর ব্যবসায়ীকে সুন্দরবন থেকে উদ্ধার

0
77
khulna opohoron_DB
শনিবার খুলনা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রেঞ্জ ডিআইজি এস এম মনিুরজ্জামান। ছবি: শিউলি রহমান

খুলনায় অপহরণের ১ সপ্তাহ পর ব্যবসায়ী জুনায়েদ হাসান শুভ্রকে (২৮) সুন্দরবন থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার খুলনা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রেঞ্জ ডিআইজি এস এম মনিুরজ্জামান ব্যবসায়ী শুভ্র অপহরণের শুরু থেকে উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বর্ণনা দেন।

এ সময় মনিুরজ্জামান জানান, শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে অপহরণকারী বনদস্যুদের কবল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ২৮ নভেম্বর রাত ৩টার দিকে শুভ্রকে অপহরণ করে বনদস্যুরা। পরে মুক্তিপণ হিসেবে তার পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করে।

ডিআইজি এস এম মনিরুজ্জামান জানান, ব্যবসায়ী শুভ্র অপহরণের পর মোবাইল ফোনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহৃত ব্যবসায়ী শুভ্রর অবস্থান নিশ্চিত হয় পুলিশ। একাধিকবার অপহরণকারীদের কাছাকাছি পৌছালেও তার টের পেয়ে স্থান বদল করে ফেলে। শুক্রবার রাতে খুলনা জেলা ও বাগেরহাট জেলার পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের জলযানের সহায়তায় কয়রা উপজেলায় সুন্দরবনের তালতলা ঘেরার খাল এলাকায় চর্তুমুখী অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে অপহরণকারী বনদস্যুরা নিরূপায় হয়ে ব্যবসায়ী শুভ্রকে হাত ও চোখ বাধা অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পুলিশ চার রাউন্ড গুলি চালালেও বনদস্যুরা পালিয়ে যায়।

ব্যবসায়ী শুভ্র বলেন, ২৮ নভেম্বর রাত ৩টার দিকে ৭/৮জন অস্ত্রধারী বনদস্যু চিংড়ি ঘেরে গিয়ে কর্মচারীদেও মারধর করতে থাকে। তাদের চিৎকার শুনে দরজা খুলে বাইরে আসা মাত্র বনদস্যুরা অস্ত্রেও মুখে জিম্মি করে টেনে হিচড়ে শুভ্রকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তুলে সুন্দরবনের ভেতরে নিয়ে যায়। পরের দিন সকালে শুভ্রর চাচা ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম জহিরের কাছে নগদ  ১ কোটি টাকা এবং ১ভরি ওজনের ১২টি স্বর্ণের চেইন যোগাড় করে রাখতে বলে। এ ঘটনা পুলিশকে জানালে হত্যা করা হবে বলে হুমকিও দেয় তারা।

প্রেস ব্রিফিং-এ উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি-১ খন্দকার রফিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত ডিআইজি-২ দিদার হোসেন, এসপি মো. হাবিবুর রহমান, শুভ্রর স্ত্রী তমা ও শিশু সন্তান, চাচা তরিকুল ইসলাম জহির ও শ্বশুর অধ্যাপক আব্দুস সালাম।