পানগাঁও বন্দর: কন্টেইনার রাখার জায়গায় ঘাস, মেশিনে মরিচা

0
97
pangaw
ছবি সংগৃহীত
pangaw
ছবি সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের কেরানীগঞ্জে পানগাঁও বন্দর উদ্বোধনের ১৩ মাস পার হলেও বন্দরটি ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের মাঝে কোনো রকম সাড়া পড়েনি। ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর চালু হওয়ার পর ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১২টি জাহাজের পণ্য ওঠানামা করেছে। এই সময়ে ৬৭১টি কন্টেইনারে ওঠানামা করেছে; যার অধিকাংশই খালি ছিল। আর আলোচ্য সময়ে মাত্র ৩৯টি বিল অফ এন্ট্রি দাখিল হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে মাত্র একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পানগাঁও টার্মিনালে এসেছে। আয় খুবই কম হলেও বন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রায় প্রতিমাসে সরকারের ৩০ থেকে ৩৪ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পানগাঁও বন্দর নিয়ে প্রচার না থাকা ও ব্যবসায়ীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে না পারায় ২৪০০ টিইউস ধারণ ক্ষমতার বন্দর কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পানগাঁও বন্দর এলাকায় মানুষের দেখা মেলা ভার। বিভিন্ন মেশিনপত্র অলস পড়ে থাকায় সেগুলোতে মরিচা পড়তে শুরু করেছে। কন্টেইনার রাখার জায়গা ভরে গেছে সবুজ ঘাসে। বন্দর এলাকা নির্জন ও কাজ না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায়ই অলস সময় পার করছেন। কোনো কোনো কর্মকর্তা সকাল ১০টার অফিস ১২টায় আসছেন। পণ্য রাখার ঘরগুলো বহু স্টাফের থাকার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

তবে বন্দরের সার্বিক অবস্থা নিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে কেউই তথ্য দিতে চাননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রটি জানায়, বন্দরে কোনো কাজ থাকে না। উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে এই পর্যন্ত যে কন্টেইনার ওঠানামা করেছে তা মাত্র দুই দিনের কাজ। উদ্বোধনের পর থেকে চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পানগাঁও বন্দরে ২৯৪টি কন্টেইনারে ৫০১ টিইউস আমদানি হয়েছে। আর বন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে পানগাঁও ছেড়েছে ৩৭৭টি কন্টেইনারে ৬৬৭ টিইউস। পণ্য ওঠানামা না থাকায় বন্দরে আয়ও নেই।

পানগাঁও বন্দর আমদানি ও রপ্তানিকারকদের মাঝে পরিচিত না হওয়ার প্রসঙ্গে সম্প্রতি কয়েকটি শিল্প কারখানার মালিকের সঙ্গে কথা হয়। সাংবাদিকদের তারা জানান, তৈরি পোশাক শিল্পের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ক্রেতার মনোনীত ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারের মাধ্যমে। ক্রেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী মনোনীত ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারের কাছে পণ্য হস্তান্তর করতে হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের পানগাঁও বন্দর ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনার ঘাটতি থাকায় বন্দরটি তেমন কাজে আসছে না।

তারা জানান, পানগাঁও বন্দর কর্তৃপক্ষেরও বিদেশি ক্রেতাদের কাছে অবহিতকরণ তথ্য পাঠানো প্রয়োজন ছিল; যাতে তারা পানগাঁও বন্দর ব্যবহারে মনোনীত ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারের নির্দেশনা দিতে পারেন।

এ বিষয়ে পোশাক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ এর দ্বিতীয় সহ-সভাপতি এসএম মান্নান কচি অর্থসূচককে বলেন, পানগাঁও বন্দর নিয়ে প্রচার হচ্ছে না। আমদানি-রপ্তানিকারকরা আগ্রহী হলে এই বন্দরে পণ্য পরিবহনে গতি আসতো।

তিনি বলেন, কোনো পক্ষ থেকেই ব্র্যান্ডিং হচ্ছে না। বন্দরটি ব্যবহার করতে পারলে পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবসায়ীরা বেশি সুবিধা পাবেন।

পানগাঁও এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ বরকত আলী অর্থসূচককে বলেন, এখানকার লোকজনের অনেক আশা ছিল বন্দর হলে তারা সেখানে কাজ করতে পারবে। কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জের কেরানীগঞ্জ এলাকায় নির্মিত এ বন্দর উদ্বোধন করেন। অবশ্য তার আগে ২৬ অক্টোবর নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান দুবাই থেকে কেনা ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি জাহাজ উদ্বোধন করেন সেখানে।

এস রহমান/