রাজশাহীতে সন্ত্রাসে অর্থায়ন হলেও জানাচ্ছে না ব্যাংকগুলো

0
77
টাকা
টাকা (ফাইল ছবি)
টাকা
টাকা (ফাইল ছবি)

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অর্থায়নে সবচেয়ে ঝুঁকিপ্রবণ অঞ্চল রাজশাহী। এ অঞ্চলের পরিস্থিতি উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা তৎপরতা থাকলেও ব্যাংকগুলোর মধ্যে আইন পরিপালনে অনীহা রয়েছে। ২০১৩ সালের তুলনায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন ও মানিলন্ডারিংয়ে এ অঞ্চলের অবনতি হয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন ঘটলেও ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তারা জানাচ্ছে না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে ব্যাংকগুলো।

বৃহস্পতিবার মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক আঞ্চলিক সম্মেলনে উত্থাপিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজশাহী অঞ্চল বেশ আগে থেকেই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য পরিচিত। আর সন্ত্রাসী কার্যক্রম যেখানে থাকে সেখানে অর্থও জড়িত থাকে। অর্থের বিষয়টি আসলেই ব্যাংকের দায়িত্বে এসে যায়। তাই মানি লন্ডারিংয়ের দায়-দায়িত্ব ৯৯ শতাংশ ব্যাংকের। অথচ এ অঞ্চলের ব্যাংকগুলোর সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করার বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে এসেছে। সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও মানি লন্ডারিংয়ের অনেক ঘটনা ঘটলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানো হয়নি। পাশাপাশি অনেক সময় মিথ্যা তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজশাহী অঞ্চলের ব্যাংকগুলো ২০০৬ সালে ১টি, ২০১১ সালে ২টি, ২০১২ সালে ১টি, ২০১৩ সালে ৫টি ও ২০১৪ সালের এখন পর্যন্ত ৩টি সন্দেহজনক লেনদেনের (এসটিআর) তথ্য পাঠিয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) উপ-মহাব্যবস্থাপক একেএম এহসান।

কেএম আহসান বলেন, বাংলাদেশ ২০০৮ সাল পর্যন্ত সন্ত্রাসে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত ছিল। বর্তমানে সে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। আগামী বছরের অক্টোবরে আন্তর্জাতিকভাবে আরও একটি মূল্যায়ন হবে। বর্তমান পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটাতে রাজশাহী অঞ্চলকে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর বলেন, গ্রাহক হিসাব খোলার বিষয়টি পরিষ্কার হলেই সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও মানি লন্ডারিংয়ের ঝুঁকি কমে যাবে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। হিসাব খোলার বিষয়ে কোনো গাফিলতি পেলেই ব্যাংকগুলোকে জরিমানা গুণতে হচ্ছে। এ জরিমানা কোনোভাবেই মাফ করা হয় না।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই সন্দেহজনক লেনদেনের রিপোর্ট করতে হবে। যদি কোনো কারণে ব্যাংক রিপোর্ট না করে আর সেটা যদি পরে সন্ত্রাসী অর্থায়নের হিসাব হিসাবে প্রমাণিত হয় তাহলে ব্যাংকগুলোকে বড় রকমের খেসারত দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী অফিসের নির্বাহী পরিচালক জিন্নাতুল বাকেয়া, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজুর আহমদ ও আল আরাফা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুর রহমান।

এসএই/এসএম