সংবাদকর্মীদের হাতে নাজেহাল মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু

0
173
Muzammel-Hossain-Monju
সকালের খবরের সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু
Muzammel-Hossain-Monju
সকালের খবরের সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু

নিজ প্রতিষ্ঠানের সংবাদকর্মীদের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন জাতীয় দৈনিক সকালের খবরের সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে পত্রিকার অফিসে সম্পাদকের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, পত্রিকাটির বিশেষ প্রতিনিধি প্রতীক ইজাজ ও আপন তারিককে অন্যায়ভাবে অব্যাহতি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সব বিভাগের কর্মীরা জড়ো হয়ে ওই ঘটনা ঘটায়। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে তিনি জনৈক কর্মীর গায়ে ধাক্কা দিয়ে তার কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এতে কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পাল্টা তার গায়ে ধাক্কা দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতির আরও অবনতির আগেই কর্তৃপক্ষ এসে ওই দুই কর্মীর অব্যাহতিপত্র তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেন। এতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। কর্মীরা নিজ নিজ ডেস্কে ফিরে যান।

উল্লেখ, ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে সকালের খবরে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। এর কিছুদিন পরই তিনি গোপন তালিকা তৈরি করে পত্রিকাটিতে ছাঁটাই শুরু করেন। এতে পত্রিকার ভেতরে দেখা দেয় বেশ অস্থিরতা। বাড়তে থাকে ক্ষোভ। শুধু ছাটাই নয়, কর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাতের ব্যাপক অভিযোগও উঠে তার বিরুদ্ধে। কিছুদিন আগে জনৈকা অন্তস্বত্তা কর্মীকে লেট নাইট ডিউটি করার জন্য পুনঃপুন চাপ দিয়ে অফিসে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেন। এর মধ্যেই গত সপ্তাহে তিনি আলোচিত দুই সাংবাদিককে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন। কিন্তু প্রশাসন বিভাগ এতে দ্বিমত করলে তিনি নিজ দায়িত্বে তা ডাকযোগে কর্মী দুজনের ঠিকানায় তা পাঠিয়ে দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পত্রিকাটির একাধিক সংবাদকর্মী জানান, প্রতীক ইজাজ শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত কয়েক দিন ধরে ছুটিতে ছিলেন। সুস্থ হয়ে বৃহস্পতিবার অফিসে (তেজগাঁও) এলে প্রতীক ইজাজকে জানানো হয়, তাকে ও আপন তারিককে ইস্তফাপত্র পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনা জানার জন্য প্রতীক ইজাজ ও আপন তারিক সম্পাদকের রুমে গেলে তিনি অশোভন আচরণ করেন এবং বলতে থাকেন- কে তুমি? তোমাকে চিনি না। বের হয়ে যাও। এক পর্যায়ে তিনি তুই তোকারি সম্বোধন শুরু করেন। আর তাতেই ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠে। চলতে থাকে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। এতে পুরো অফিসে  ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ে। সকালের খবরের রিপোর্টিং বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রতিবাদ জানান এবং সম্পাদকের পদত্যাগ চেয়ে কক্ষ ঘেরাও করেন। এ সময় মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জুর সঙ্গে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কি হয়।

উল্লেখ, প্রবীণ সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, মালিকদের পক্ষ নিয়ে কর্মীদেরকে নানা কৌশলে বঞ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে গ্রুপিং তৈরির অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানে খুব বেশিদিন কাজ করতে পারেন না। গত ১০ বছরে তিনি ৭টি প্রতিষ্ঠান বদলেছেন তিনি। ঘটনার শুরু ২০০৪ সালে। সে বছর তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিরোধের প্রেক্ষিতে প্রথম আলো ছাড়তে বাধ্য হন। দৈনিক সংবাদের তৎকালীন সম্পাদক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল তাকে যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে নিজ প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানে তিনি ৬ মাসের বেশী থাকতে পারেননি। কিছুদিন পর যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন দৈনিক সমকালে। তারপর ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার নুর আলীকে ম্যানেজ করে অধিনায়ক নামে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেন। কিন্তু প্রায় দেড় বছর একদল তরুণ-তরুণীকে বেতন দিয়ে গেলেও পত্রিকাটিকে তিনি আলোর মুখ দেখাতে পারেননি। এ প্রকল্পের কোনো সম্ভাবনা নাই দেখে নুর আলী অধিনায়ককে বাজারে আনার চিন্তা বাদ দিয়ে আমাদের সময় নামের চলমান পত্রিকাটি কিনে নেন। মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জুকে তিনি ঠাঁই দেন আমাদের সময়ে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে সেখান থেকেও বিদায় নিতে হয়।

সকালের খবরে যোগ দেওয়ার আগে তিনি কিছুদিন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু নতুন এ পত্রিকাটি প্রকাশের আগেই তাকে সে পত্রিকা থেকে বিদায় নিতে হয়।

দুটি নতুন পত্রিকার সাথে শুরু থেকে যুক্ত থাকলেও সেগুলোকে আলোর মুখ দেখাতে পারেননি তিনি। বাধ্য হয়ে মালিকপক্ষকে অন্য সম্পাদক খুঁজতে হয়। আর তাদের হাত ধরে পাঠকের কাছে আসে ওই দুই পত্রিকা। দীর্ঘদিন নিজের ও  কিছু সহকর্মীর বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে আলোচিত দুই পত্রিকার মালিকদের কোটি টাকা অপচয় করলেও, সেই তিনিই ব্যয় সংকোচনের নামে নীরিহ সহকর্মীদের বলির পাঁঠা বানান।