ছিটমহল বিনিময়ে আর আপত্তি নেই মমতার

0
67
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়

অবশেষে ছিটমহল ইস্যুতে নিজের অনড় অবস্থান থেকে সরে আসলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময়ের ব্যাপারে নিজের সম্মতির কথা জানিয়েছেন মমতা।

বাংলাদেশর সীমান্ত সংলগ্ন কোচবিহারের করলা ছিটমহলের কাছে একটি জনসভায় আজ এ কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।

মমতা বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় সরকারকে জানিয়ে দিয়েছি যে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমা চুক্তি অনুযায়ী ছিটমহল বিনিময়ে রাজ্য সরকারের আপত্তি নেই। আপনাদের এই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে গেলাম আজ। এসময় বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের ছিটমহলবাসী জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়

বৃহস্পতিবার এক খবরে বিবিসি আরও জানিয়েছে, মমতার এই ‘প্রকাশ্য সম্মতি’র গুরুত্ব এখন অনেকটাই কমে গেছে। কারণ এর মধ্যেই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সবুজ সংকেত পেয়ে গেছে ছিটমহল বিনিময়ের ব্যাপারটি।

গত রোববার আসামের গুয়াহাটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই স্থলসীমা চু্ক্তি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার কিছুদিন আগে ভারতের লোকসভার বিদেশ মন্ত্রক সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটিতে ওই সংবিধান সংশোধনী অনুমোদিত হয়। সেই সভাতেও এর পক্ষেই মত দেয় মমতার তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমুল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই স্থল সীমা চুক্তির বিরোধিতা করে আসছিল। ভারতের সংসদে ওই চু্ক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনী বিল আনতেও বাধা দেয় তারা। কিন্তু ওই বিল পাশ হবার পথে প্রধানতম বাধা ছিল নরেন্দ্র মোদীর দল বিজেপির বিরোধিতা।

তবে এখন আশা করা হচ্ছে, কিছুদিনের মধ্যেই ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পেশ করা হবে স্থল সীমা চু্ক্তির সংবিধান সংশোধনী বিলটি।

এ বছরের লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই মমতা ব্যানার্জী এই চুক্তি নিয়ে তার প্রবল বিরোধিতার জায়গা থেকে সরে আসতে শুরু করেন। পরিবর্তন করতে থাকেন তার অবস্থান।

এর একটা কারণ অবশ্য বাংলাদেশ ছিটমহলবাসীদের একাংশের অবৈধভাবে ভারতীয় ভোটার তালিকায় নাম তোলা আর সেই প্রায় ২০ হাজার ভোটের সবকটি তৃণমূল কংগ্রেসের ঘরে চলে আসার নিশ্চয়তা। লোকসভা নির্বাচনের দিনে ছিটমহলবাসীদের অনেকেই বিবিসি বাংলার কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে আজকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ছিটমহলবাসীদের পুনর্বাসন আর উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব একটি পরিকল্পনা আর দাবিসনদ তৈরি করছেন, যেটা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হবে খুব শীঘ্রই, এটাও জানিয়েছেন মমতা।

তবে ভারতীয় জনতা পার্টির আসামের নেতৃত্বের একাংশ, আর অসমীয়া জাতীয়তাবাদী দলগুলি এখনও এই চুক্তির বাস্তবায়নের বিরোধিতা করছেন।

১৯৭৪-এ ইন্দিরা গান্ধী আর শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে সই হয়েছিল স্থল সীমা চু্ক্তি। ওই চুক্তি অনুযায়ী ছিটমহলগুলি যেমন বিনিময় হওয়ার কথা, তেমনই ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় আর পশ্চিমবঙ্গে থাকা বেশ কিছু অপদখলীয় ভূমিও বিনিময় হওয়ার কথা।

বাংলাদেশের সংসদে ওই চু্ক্তি আগেই অনুমোদিত হয়, কিন্তু ভারতের পার্লামেন্ট তার সংবিধান সংশোধন করাতে পারে নি।

তার ফলে চুক্তি হওয়ার ২৫ বছর পরে, ১৯৯৯ সালে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। চুক্তিটিকে পুনরায় সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজন হয় একটি প্রোটোকল চু্ক্তি – যেটা ২০১১ সালে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময়ে সই করে দুই দেশ।

এআর/