‘আপনার তো চাকরি থাকবে না’

0
96

‘চিল্লাচিল্লি করে’ রাস্তাঘাট ‘ঠিক করে ফেলেছেন’ দাবি করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনজুর আলমকে ঠাট্টাছলে বলেছেন, “আপনার তো চাকরি থাকবে না।”

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের মেয়র মনজুর আলমের বাসার সামনে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের মেয়র মনজুর আলমের বাসার সামনে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামে মেয়রের বাসায় গিয়ে এমন রসিকতা করেন তিনি।

এক্সেল লোড স্টেশনের পরিচালনার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর উপলক্ষে সীতাকুণ্ডে যাওয়ার পথে সকালে চট্টগ্রামের সিটি গেইট এলাকায় যাত্রাবিরতি করে মন্ত্রীর গাড়িবহর।

ওই এলাকার দক্ষিণ পাশেই বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেয়র মনজুরের বাসভবন। পাশের ভবনে থাকেন মেয়রের ভাইপো সীতাকুণ্ডের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলম।

কম্পাউন্ডে ঢোকার পর গাড়ি থেকে নেমে ওবায়দুল কাদের সরাসরি চলে যান মেয়রের বাসার সামনে। সেখানে সাংসদ ভাইপোকে নিয়ে মন্ত্রীকে স্বাগত জানান মেয়র। দুজনের কোলাকুলি আর কুশল বিনিময় কাটে কিছু সময়।

এর মধ্যেই আচমকা মন্ত্রী বলে বসেন, “আপনার তো চাকরি থাকবে না’। ওবায়দুল কাদেরের মুখে তখন দুষ্টুমির হাসি। বললেন, আপনি তো খুব ভালো মানুষ। সবাই বলে। রাস্তাঘাট তো আমি চিল্লাচিল্লি করে ঠিক করে ফেলছি। আপনি বিলবোর্ডগুলো ঠিক করেন।”

জবাবে মেয়রও হাসিমুখে বলেন, “তুলে ফেলব।”

এরপর সবাই মিলে সাংসদ দিদারের বৈঠকখানায় যান। সেখানে মন্ত্রী, মেয়র ও সাংসদ দিদারুল আলমের সঙ্গে যোগ দেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদ।

আধাঘণ্টা ধরে জমিয়ে আড্ডায় মন্ত্রীকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষাতেও কথা বলতে শোনা যায়। আড্ডার ফাঁকে চলে খাওয়া-দাওয়া।

১০টা ৪০ মিনিটে মন্ত্রীর গাড়িবহর সীতাকুণ্ডের পথে রওনা হওয়ার আগে ওবায়দুল কাদেরের গাড়িতে কিছু মাছও তুলে দেন দিদারুল আলম।

২০১০ সালে মেয়র নির্বাচনে নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করেন তারই একসময়ের রাজনৈতিক শিষ্য মনজুর আলম।

প্রায় ১৭ বছর আওয়ামী লীগের সমর্থনে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করা মনজুর মেয়র হওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টার পদ পান।

মহিউদ্দিনের নামে বুধবার চট্টগ্রামের একটি সড়কের নামকরণেরও ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র মনজুর।

এআর/