বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া যৌথ কমিশনের বিষয়ে ঐকমত্য

0
84

বিভিন্ন ক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে যৌথ কমিশনের বৈঠক আহ্বানের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।

গতকাল মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সেন্টার অব ফেডারেল এডমিনিস্ট্রেশন অব মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে এই মতৈক্য হয়।

Prime Minister
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পুত্রজায়ায় গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক সংবর্ধনা।

বৈঠকে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ নাজিব বিন তুন আব্দুল রাজাক নিজ নিজ পক্ষের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন। উভয় দেশের মন্ত্রী এবং জেষ্ঠ্য কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক জানান, বৈঠকে যৌথ কমিশনের বৈঠক আহ্বান এবং উভয় দেশের মধ্যে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য, মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক এবং বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আগামী ২০১৫ সালে যৌথ কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। ২০০৫ সালে ঢাকায় যৌথ কমিশনের সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ, পাটজাত পণ্য, সিমেন্ট ও পাদুকার কোটা ও শুল্ক মুক্তির পরিধি বাড়ানোর জন্য মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের বিষয়ে যৌথ বিনিয়োগ ফোরাম গঠনের প্রস্তাব করেছেন তিনি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে শহীদুল হক বলেন, উভয় দেশের সম্পর্কে বিরক্তিকর কিছু নেই। সুতরাং আমরা এই সম্পর্ককে একটি নতুনমাত্রা দিতে পারি।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ মালয়েশিয়াকে দীর্ঘমেয়াদী এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য চাপ দেয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই ইস্যুতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন এবং এ সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা শুরু করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বিদেশে শ্রমিক প্রেরণ এবং ডাটাবেজের মাধ্যমের এই শ্রমিকদের রেকর্ড সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শিক্ষা খাতে সহায়তা বৃদ্ধি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের আহবান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিার মধ্যে বর্তমানে দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্ক যে নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে তার ভিত্তি রচিত হয়েছিলো ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক মালয়েশিয়া সরকারের মাধ্যমে। তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নাজিব বিন তুন আবদুল রাজাকের পিতা আবদুল রাজাক হোসেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বর্তমানে ২ দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের ভারসাম্য মালয়েশিয়ার দিকে থাকার প্রেক্ষাপটে উভয় দেশ এই বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মত হয়েছে। বাণিজ্য ব্যবধান হ্রাসে সক্রিয় পদক্ষেপে সম্মত হন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী রাজাক জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩ লাখ বাংলাদেশি রয়েছে। এর বেশিরভাগই নির্মাণ ও কৃষি কাজে নিয়োজিত। মালয়েশিয়ায় কৃষি কাজে আরও শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হবে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আলোচনার শুরুতেই মালয়েশিয়ার দুটি বিমান দুর্ঘটনায় বহু লোকের প্রাণহানিতে গভীর শোক ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে ২ দেশের প্রধানমন্ত্রী একান্তে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ.কে.এম. শামীম চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্র সচিব মোজাম্মেল হক খান প্রমুখ।

সূত্র: বাসস

এমই/