নিউইয়র্কেও কৃষ্ণাঙ্গ হত্যায় পুলিশকে অব্যাহতি

0
78
eric-garner choked 2
eric-garner choked 2
কয়েক হাজার কৃষ্ণাঙ্গ তাৎক্ষণিকভাবে টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়ে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও এক নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শ্বেতাঙ্গ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন না করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড জুরি।

এক খবরে বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর কয়েক হাজার কৃষ্ণাঙ্গ তাৎক্ষণিকভাবে টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়ে তার প্রতিবাদ করেছেন।

একই সাথে অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার ওই ঘটনায় নাগরিক অধিকারের লঙ্ঘন হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন ।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুলাই নিউ ইয়র্কের রাস্তায় অবৈধভাবে সিগারেট বিক্রির অভিযোগে এরিক গার্নারকে (৪৩) আটকের সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে জোর করে রাস্তায় ফেলে চেপে ধরলে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাক্রমে এই দৃশ্য একজন ভিডিও করেন এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্য গার্নারকে রাস্তায় ফেলে চেপে ধরেছেন। এর মধ্যে একজন পেঁচিয়ে ধরেছেন তার গলা। শ্বাসকষ্টের রোগী গার্নারকে এ সময় চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, তার দম বন্ধ হয়ে আসছে।

eric-garner choked
গার্নারকে গ্রেপ্তারের দৃশ্য

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ড্যানিয়েল প্যান্টালিওর দাবি, গার্নার গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়ায় তাদের ওই পদক্ষেপ নিতে হয়।

তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের প্রতিবেদনে ওই ঘটনাকে হত্যা হিসাবে উল্লেখ করা হলে বিষয়টি গ্র্যান্ড জুরিতে যায়। কিন্তু গ্রান্ত জুরি অভিযোগ গঠন না করার সিদ্ধান্ত দিল।

গ্র্যান্ড জুরির সিদ্ধান্তের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, “আইনের আওতায় কেউ সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত হলে সেটি একটি বড় সমস্যা। আর প্রেসিডেন্ট হিসাবে এর সমাধানে সহযোগিতা করা আমার দায়িত্ব।”

দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট ওবামা আরও বলেন, এই ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে বড় ধরনের সমস্যার কথাই বলছে।

এর মাত্র নয় দিন আগে মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ফার্গুসনেও একটি গ্র্যান্ড জুরি একই ধরনের একটি রায় দেয়, যাতে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ মাইকেল ব্রাউনকে (১৮) গুলি করে হত্যার ঘটনায় শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ড্যারেন উইলসনের বিচার না করার সিদ্ধান্ত আসে।

ওই রায়ের পর তাৎক্ষণিকভাবে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয় ফার্গুসনে। সহিংস প্রতিবাদকারীরা দোকানপাট ও যানবাহন ভাংচুর করে এবং একজন পুলিশ গুলিবিদ্ধ হন।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগে উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বেছে বেছে প্রয়োজন না থাকলেও কৃষ্ণাঙ্গদের ক্ষেত্রে বল প্রয়োগ করছে।