চট্টগ্রামে রাজস্ব কমলেও বেড়েছে আয়কর রিটার্ন

0
117
loan money
ফাইল ছবি
loan money
ফাইল ছবি

২০১৩-১৪ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় শেষ হয়েছে গত ৩০ নভেম্বর। এই অর্থবছরে চট্টগ্রামের ৪টি কর অঞ্চলে ২০১২-১৩ অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় কমেছে ২৫ শতাংশ; তবে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৮৮৫টি।

চট্টগ্রামের ৪টি কর অঞ্চলের তথ্য মতে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৩৯ কোটি ৯ লাখ ১৯ হাজার ৭৬১ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা তার আগের বছরের তুলনায় ৪৬ কোটি ৫৪ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৪ টাকা কম। আগের অর্থবছরে আদায় হয়েছিল ১৮৫ কোটি ৬৪ লাখ ৬০ হাজার ১২৫ টাকা।

চট্টগ্রামে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন ১ লাখ ৩০১ জন। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ৫ হাজার ৮৮৫ জন বেশি। আগের অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছিলেন ৯৪ হাজার ৪১৬ জন।

রাজস্ব আদায় কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-২ এর কমিশনার অপূর্ব কান্তি দাস অর্থসূচককে বলেন, “গত বছর আয়কর জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে করদাতারা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পেয়েছেন। কিন্তু এ বছর রিটার্ন দাখিলের সময় শেষ হয় ৩০ নভেম্বর। বেশ কিছু কোম্পানি হিসাব শেষ করতে না পারায় আয়কর জমা দিতে পারেনি।”

নির্ধারিত তারিখ শেষ হলেও করদাতারা যেকোনো সময় নিজ নিজ কর অঞ্চলের কার্যালয়ে আয়কর জমা দিতে পারবেন বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, আয়কর অধ্যাদেশে নির্ধারিত সময়ে আয়কর বিবরণী জমা না দিলে এককালীন ১ হাজার টাকা এবং পরবর্তী প্রতিদিনের জন্য বাড়তি ৫০ টাকা হারে জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে কেউ সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের সহকারী কর কমিশনার বরাবর আবেদন করলে নির্ধারিত সময়ের পরও বিবরণী জমা নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১ এর কমিশনার মো. দবির উদ্দিন জানান, করদাতাদের অনুরোধে প্রতি বছর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানো হয়। এ বছরও ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানো হয়। গতবারের মতো এবারও ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়তে পারে- এমন ধারণা থেকে অনেকে আয়কর জমা দেননি।

চট্টগ্রামের ৪টি কর অঞ্চলের তথ্য মতে, আদায় হওয়া ১৩৯ কোটি ৯ লাখ ১৯ হাজার ৭৬১ টাকার মধ্যে ব্যক্তি শ্রেণি থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১০২ কোটি ২৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬২৭ টাকা। আর কোম্পানি শ্রেণি থেকে আদায় হয়েছে ৩৬ কোটি ৮৫ লাখ ৮২ হাজার ১৩৬ টাকা।

কর অঞ্চল-১ থেকে ব্যক্তি শ্রেণির কর আদায় হয়েছে ৩৪ কোটি ৯৪ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৫ টাকা এবং কোম্পানি শ্রেণি থেকে ৭ কোটি ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৮০৪ টাকা। আর রিটার্ন জমা পড়েছে ২৬ হাজার ২৩২টি।

কর অঞ্চল-২ এ ব্যক্তি শ্রেণির কর আদায় হয়েছে ২৪ কোটি ৭৮ লাখ ৩ হাজার ৫৪৬ টাকা এবং কোম্পানি শ্রেণি থেকে ১৯ কোটি ৮৮ লাখ ৮৫ হাজার ১৭৩ টাকা। সেখানে রিটার্ন জমা পড়েছে ২৩ হাজার ৩৩৫টি।

কর অঞ্চল-৩ এ ব্যক্তি শ্রেণির কর আদায় হয়েছে ২৪কোটি ৭২ লাখ ২৯ হাজার ২৫ টাকা এবং কোম্পানি শ্রেণি থেকে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯ টাকা। আর রিটার্ন জমা পড়েছে ২৭ হাজার ৯৩০টি।

কর অঞ্চল-৪ এ ব্যক্তি শ্রেণির কর আদায় হয়েছে ১৭ কোটি ৭৮ লাখ ৮৮ হাজার ৩১১ টাকা এবং কোম্পানি শ্রেণি থেকে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯ টাকা। আর রিটার্ন জমা পড়েছে ২৭ হাজার ৯৩০টি।

উল্লেখ্য, এবার কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এনবিআর আয়কর রিটার্ন জমার সময় ২ দফা বাড়িয়ে গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করেছিল।

নির্ধারিত সময়ে সারাদেশে ১০ লাখ ২৭ হাজার ৬২৩টি আয়কর রিটার্ন পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আর ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয়কর আদায় হয়েছে ১ হাজার ৩৯০ কোটি হাজার ৩৬ লাখ টাকার।

তবে গত বছরের তুলনায় আয়কর রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ২ লাখ ৪০ হাজারটি বেশি এবং আয়করও প্রায় ২০০ কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।