জব্বারের রায় যেকোনো দিন

মানবতাবিরোধী অপরাধ

0
85
Abdul Jabbar

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য পিরোজপুরের পলাতক ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বারের বিরুদ্ধে রায় আগামী যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আবদুল জব্বারে বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম শেষ হয়।

Abdul Jabbar
জাতীয় পার্টির নেতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক আব্দুল জব্বার। ফাইল ছবি

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনালে শেষ দিনে যুক্তি খণ্ডন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের দেওয়া যুক্তির পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবুল হাসান।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে আবদুল জব্বারের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা বাদে রাষ্ট্রপক্ষে ২৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাক বাহিনীর সহযোগী মঠবাড়ীয়া থানা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন আব্দুল জব্বার।

জব্বার পলাতক থাকায় গত ৮ জুলাই ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আসামিপক্ষে মামলা চালাতে রাষ্ট্রীয় খরচে মোহাম্মদ আবুল হাসানকে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

গত ১৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার জব্বারের অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-১।

আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ধর্মান্তরিতকরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫টি অভিযোগ আমলে নেন আদালদ। একইসঙ্গে ৭ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে গত ১১ মে জব্বারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। ১২ মে প্রসিকিউশনের ৫টি অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের আবদুল জব্বারের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- হত্যা, গণহত্যা, ধর্মান্তকরণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি। এই মামলায় ৪৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪০ জন ঘটনার এবং ৬ জন জব্দ তালিকার সাক্ষী ছিল।

১ম অভিযোগে বলা হয়েছে, জব্বার মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়ার ফুলঝড়িতে ২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেন। এছাড়া নাথপাড়া ও কুলুপাড়ার শতাধিক বাড়িতে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করেন। ২য় অভিযোগ: মুক্তিযুদ্ধের সময় ফুলঝুড়িতে ১ জনকে হত্যা এবং ৩৬০টি বাড়ি-ঘর লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।

৩য় অভিযোগ: নলিতে ১১ জনকে গণহত্যা ছাড়াও ৬০টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করেন। ৪র্থ অভিযোগ: ফুলঝড়িতে প্রায় ২শ নিরস্ত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের লোককে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করেন জব্বার। ৫ম অভিযোগ: মুক্তিযুদ্ধের সময় জব্বার আঙ্গুলকাটা এবং মঠবাড়ীয়া থেকে ৩৭ জনকে আটক, মালামাল লুণ্ঠন, অপহরণ, নির্যাতন, ১ জনকে গুরুতর জখম এবং ২২ জনকে হত্যা করেন।

জব্বারের বিরুদ্ধে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন (আইও) মো. হেলাল উদ্দিন।

এমই/