গরু পাচার বন্ধ করা ‘সম্ভব নয়’: বিএসএফ

0
99
Cow
ভারত থেকে নদী পথে বাংলাদেশে গরু পাচার।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গরু পাচার রোধের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএসএফের বর্তমান ও প্রাক্তন অফিসাররা।

গত সোমবার বিএসএফের প্রতিষ্ঠা দিবসের ভাষণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে গরু পাচার বন্ধে সবরকম চেষ্টা করতে হবে।

Cow
ভারত থেকে নদী পথে বাংলাদেশে গরু পাচার।

এমন নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএফের অফিসাররা তাদের সন্দেহের কথা বলেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ভাষণ নিয়ে বাহিনীর কোনো কর্মকর্তাই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।

বিএসএফ বলছে, পাচার হওয়ার সময়ে চলতি বছর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সাড়ে ৮৫ হাজার গরু আটকানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৫২ জন সন্দেহভাজন পাচারকারী। তবে এর চেয়ে বেশি গরু পাচার হয়েছে। এই পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা বাস্তবে খুব কঠিন।

বিএসএফের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সলিল কুমার মিত্র বলেন, গরু পাচার সম্পূর্ণ বন্ধ করার ক্ষেত্রে বিএসএফের দায়িত্ব অনেকটাই সীমিত। এই সীমান্তে যে গরু পাচার হয়, সেগুলো পশ্চিমবঙ্গের নয়। মূলত তা পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ থেকে আনা হয়।

তিনি বলেন, কয়েকশ কিলোমিটার দূর থেকে ট্রাকে চাপিয়ে গরু নেওয়া হয়। সেই রাস্তায় পুলিশ আর শুল্ক বিভাগও রয়েছে। তারা সঠিক ভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে গরুগুলো সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতেই পারে না।

BGB-BSF
বিজিবি-বিএসএফ কর্মকর্তাদের বৈঠক।

বাংলাদেশ-ভারত গরু পাচারে আইনি সমস্যাও রয়েছে। ভারত থেকে জবাই করার জন্য গরু বিদেশে রপ্তানি নিষেধ হলে বাংলাদেশে আমদানি করতে কোনো আইনি জটিলতা নেই।

বিএসএফের অনেক অফিসার মনে করেন, পাচার বন্ধ করার চেষ্টা না করে আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে গরু রপ্তানি করা হলে পাচার বন্ধ হবে।

সলিল কুমার মিত্র বলেন, যে গরুগুলো পাচার করা হচ্ছে সেগুলো দুধ দিতে বা চাষের কাজে অক্ষম। তাই মাংস প্রসেসিং কেন্দ্র খোলা যায় কি না- সরকারের সেটা ভেবে দেখা উচিত।

তিনি বলেন, ভারত সরকারকে বাস্তব চিন্তা করতে হবে, যদিও কয়েকটা রাজনৈতিক দল হয়তো মতাদর্শগতভাবে এটা চাইবে না।

সূত্র: বিবিসি

এমই/