বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়েছে: টিআই

0
68
TIB
‘বিশ্ব দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৪’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশকালে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বিশ্ব দুর্নীতির ধারণা সূচকে অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের। গত বছর ১৬তম অবস্থানে থাকলেও ২০১৪ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৪তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

TIB2
‘বিশ্ব দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৪’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশকালে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ‘বিশ্ব দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৪’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশকালে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এই উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বুধবার সকাল ১০টায় এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, ২০১৪ সালের দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় নিম্নক্রম অনুসারে ১৪তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। সূচকে ০-১০০ স্কেলে বাংলাদেশের স্কোর ২৫। ১৭৫টি দেশের মধ্যে ঊর্ধ্বক্রম অনুসারে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৫।

২০১৩ সালে সূচকে অন্তর্ভুক্ত ১৭৭টি দেশের মধ্যে নিম্নক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশে অবস্থানে ছিল ১৬তম। আর ঊধ্বক্রম অনুযায়ী ১৩৬তম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে ২ পয়েন্ট কম পেয়ে ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী ৯ ধাপ নিচে নেমেছে বাংলাদেশ।

৯২ স্কোর পেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে ডেনমার্ক। ৯১ স্কোর পেয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড। আর মাত্র ৮ স্কোর পেয়ে এ তালিকায় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে যৌথভাবে উত্তর কোরিয়া ও সোমালিয়া। ১১ ও ১২ স্কোর পেয়ে তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে সুদান ও আফগানিস্তান।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হলো ভুটান। ২০১৪ সালে এ দেশটির স্কোর ৬৫ ও ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী অবস্থান ৩০। ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী এরপরে যৌথভাবে রয়েছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। যাদের স্কোর ৩৮ এবং অবস্থান ৮৫। এরপর ২৯ স্কোর পেয়ে ১২৬ অবস্থানে রয়েছে নেপাল ও পাকিস্তান। এরপর ২৫ স্কোর পেয়ে ১৪৫তম অবস্থানে বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এটি টিআইবির ২০তম প্রতিবেদন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ৭টি সূচকের জরিপ থেকে সূচক তৈরি করা হয়েছে।

 ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৪ বাংলাদেশের অবস্থান ৯ ধাপ নিচে নামাটা কোনো অবস্থাই ইতিবাচক নয়। অবশ্যই উদ্বেগের কারণ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছার চরম অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে এবার। সংসদীয় কমিটিগুলোর মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব বেশি উঠে এসেছে। দুদককে আরও কার্যকর করতে হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সততা ও আইনি প্রক্রিয়ায় সচ্ছতা থাকতে হবে। বিচার ও প্রশাসনিক বিভাগকে আরও স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। এছাড়া সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকতে হবে।

অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ১০০ নম্বরের মধ্যে মাত্র ২৫ নম্বর পাওয়া খুবই নেতিবাচক। বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ইতিবাচক ধারায় ছিল। যেখান থেকে ভালো করার সুযোগ ছিল।

তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতি সহায়ক শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। আর তা প্রতিরোধ শক্তির প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়েছে। আর এসব দুর্নীতি প্রকাশের চেষ্টা হলে ওপরের মহল কর্তৃক চাপ সৃষ্টি ও নেতিবাচক প্রভাবে অনেকটাই তা অপ্রকাশিত থেকে গেছে। যে কারণে সাধারণ মানুষ দুর্নীতির ব্যাপক শিকার হয়েছে। তবে সাধারণের এই হেনেস্তার বিচার হচ্ছে না। টিআইবির কথাগুলো যখন কর্তৃপক্ষের কাজে লাগে তখন সেটাকে প্রশংসা করা হয়। আবার যখন এটা তাদের বিরুদ্ধে চলে যায় তখন এই তথ্যকে ভুল, মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

এসইউএম/এসএ/এমই/এসএম