পোশাক মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নয়নের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

0
81
Chunnu
পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের জেন্ডার সমতা বিষয়ক এক মঙ্গলবার বিজিএমইএ কার্যালয়ে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু।
পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের জেন্ডার সমতা বিষয়ক এক মঙ্গলবার বিজিএমইএ কার্যালয়ে কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। ছবি: মহুবার রহমান
পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের জেন্ডার সমতা বিষয়ক এক মঙ্গলবার বিজিএমইএ কার্যালয়ে কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। ছবি: মহুবার রহমান

শ্রমিকদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করে পোশাক শিল্পকে বাঁচানোর জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু।

মঙ্গলবার বিজিএমইএ কার্যালয়ে পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের জেন্ডার সমতা বিষয়ক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি আহ্বান জানান। পোশাক শিল্পকে আরও টেকসই করতে সব কারখানায় কাজের পরিবেশ উন্নত করা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম এলাকার ৪০টি পোশাক কারখানার মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)এর সহায়তায় শ্রম মন্ত্রণালয় ও বিজিএমইএ’র যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কাজ করে। এই খাতের শ্রমিকের ৮০ শতাংশই নারী। যেখানে এতো নারী শ্রমিক কাজ করে সেখানে পুরুষ শ্রমিকের দ্বারা নির্যাতন অনেক বেশি হবে- এটা মনে হয় না। কারণ এই খাতের শ্রমিকরা বেশি অংশ নারী হওয়ায় হয়রানি করাটা অনেক কঠিন।

পোশাক কারখানার মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সরকার সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। আপনারা কাজের পরিবেশ উন্নত করুন। এই খাতকে আরও টেকসই করতে হলে সব কারখানার কাজের পরিবেশ নিরাপদ থাকতে হবে।

“মালিকদের মনে রাখতে হবে শ্রমিক ও মালিক একে অপরের পরিপূরক। শ্রমিক না থাকলে মালিকের অস্তিত্ব থাকবে না। তাই শিল্পকে বাঁচাতে উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে”, যোগ করেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ইউএনএফপিএ এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মাতাভেল পিকসিন বলেন, পোশাক কারখানাগুলোতে নারী শ্রমিকরা কর্মপরিবেশ ঝুঁকি থেকে শুরু করে কারখানার গেইটম্যানের ভয়েও থাকে। বিশেষ করে পুরুষ শ্রমিকের দ্বারা হয়রানির ভয়ে থাকে। কাজের পরিবেশ উন্নত ও ভয়মুক্ত হলে তারা খোলা মনে কাজ করতে পারবে। এতে উৎপাদন আরও বাড়বে।

বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, শুধু নারীই নয়; পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে। এতো বড় শিল্পে লিঙ্গ অসমতা থাকতে পারে। তবে পোশাক শিল্পের কারণে নারীর ক্ষমতায়ন বেড়েছে।

তিনি বলেন, আমরাই নারী শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পেরেছি। যার ফলে বাল্যবিবাহসহ অন্যান্য সামাজিক ব্যাধি হ্রাস পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে ড. জুলিয়া আহমেদ বলেন, পোশাক শিল্পে ৮৪ দশমিক ৭ শতাংশ নারী শ্রমিক নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসহ অন্য যেকোনো বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে শ্রম সচিব মিখাইল শিপার, বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম, এস এম মান্নান কচি, রিয়াজ বিন মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসএম