বার্গম্যানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

0
134
David+Bergman
ডেভিড বার্গম্যান (ফাইল ছবি)
David+Bergman
ডেভিড বার্গম্যান (ফাইল ছবি)

আদালত অবমাননার দায়ে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে সাজা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বার্গম্যানকে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর)  ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চলা পর্যন্ত এজলাসকক্ষে থাকার আদেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ৫ হাজার টাকা জরিমানা জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাকে ৭ দিন কারাভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় দেন।

ব্রিটিশ নাগরিক ডেভিড বার্গম্যান বর্তমানে ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজের বিশেষ প্রতিনিধি। তিনি বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের মেয়ে আইনজীবী সারা হোসেনের স্বামী।

প্রসঙ্গত, বার্গম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা চেয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ। পরদিন এ বিষয়ে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সাঈদ মিজান।

ওই দিন তিনি শুনানিতে বলেছিলেন, সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান তার নিজের ব্লগে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি ‘আজাদ জাজমেন্ট অ্যানালাইসিস-১, ইন অ্যাবসেন্সিয়া ট্রায়াল অ্যান্ড ডিফেন্স ইনডিকোয়েন্সি’ এবং ‘আজাদ জাজমেন্ট অ্যানালাইসিস-২, ট্রাইব্যুনাল অ্যাজাম্পশন’ শীর্ষক লেখা প্রকাশ করেন।

এতে ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আবুল কালাম আযাদের রায় নিয়ে করা মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালের মর্যাদাহানি হয়েছে বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়।

সাঈদ মিজান শুনানিতে বলেন, ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার আগেই সে বিষয়ে মন্তব্য করেছেন ডেভিড বার্গম্যান। বিচারাধীন বিষয় নিয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি। এ মন্তব্যগুলো বিচারিক আদালতের জন্য ‘হুমকিস্বরূপ এবং জনস্বার্থবিরোধী’। এগুলো রায় নিয়ে জনগণের মধ্যে ‘বিভ্রান্তি’ সৃষ্টি করেছে এবং ‘জাতীয় অনুভূতিকে’ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ডেভিড বার্গম্যানের ব্লগে দেলাওয়ার হুসাইন সাঈদীর রায় নিয়েও মন্তব্য করা হয়েছে।

গত ১৮ মার্চ আইনজীবীর মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন ডেভিড বার্গম্যান। তাতে সন্তুষ্ট না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল গত ১৭ এপ্রিল তাকে আবারও জবাব দাখিল করতে বলে। কয়েক দফা পিছানোর পর গত ২৫ আগস্ট বার্গম্যানের পক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো দাখিল করা জবারের শুনানি করেন তার আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান।

২০১১ সালে ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এইজ’ এ মতামত কলামে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় ডেভিড বার্গম্যানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

নিজের ব্লগের বিষয়ে ডেভিড বার্গম্যান বলেছিলেন, সেখানে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া কিছু আদেশ নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য রয়েছে। তবে সেগুলো পরিমিত ও নিরপেক্ষ, যদিও কেউ কেউ এতে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন।

২০১১ সালের ২ অক্টোবর ‘এ ক্রুসিয়াল পিরিয়ড ফর আইসিটি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর আদালত অবমাননার অভিযোগে প্রতিবেদক ডেভিড বার্গম্যান, নিউ এইজ সম্পাদক নুরুল কবির এবং প্রকাশক আ.স.ম. শহীদুল্লাহ খানকে কারণ দর্শাতে বলে ট্রাইব্যুনাল। শুনানি শেষে ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ডেভিড বার্গম্যানকে সর্বোচ্চ সতর্কাদেশ দেন আদালত। সে সময় আদালত অবমাননা হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল শুধুমাত্র ভাবমূর্তির বিবেচনায় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

এমই/