কর্ণফুলী ঘাট শ্রমিকদের কর্মবিরতি ৩য় দিনে

0
111
ফাইল ছবি
Strike_Ship_ctg
ছবি: সংগৃহীত

মজুরি বৃদ্ধিসহ ৯ দফা দাবি আদায়ে কর্ণফুলী নদীর ঘাট শ্রমিকদের একাংশের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি আজ তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে প্রায় ৯৫ হাজার টন পণ্য নিয়ে নদীতে আটকে আছে ৭৫টি লাইটারেজ জাহাজ ও ৬টি মাদার ভ্যাসেল। এতে লোকসানের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারক ও শিপিং ব্যবাসায়ীরা।

ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠন ঘাট গুদাম শ্রমিক সংগ্রাম ইউনিয়নের শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, সংগঠনের আহবায়ক ইদ্রিস আলীকে গ্রেপ্তার করায় আরও কঠোর কর্মসূচির পরিকল্পনা চিন্তা করছেন তারা।

এদিকে সংকট নিরসনে শ্রমিকদের সাথে ঘাট ইজারা মালিক ও চট্টগ্রাম ব্যবসায়ী নেতাদের আজ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম চেম্বারের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। গতকাল কর্মবিরতিরত শ্রমিকদের ওপর হামলা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এ বৈঠক হয়নি।

জানা যায়, চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট, বাংলাবাজার ও সদরঘাট এলাকায় মোট ১৬টি ঘাট ও ৯৬টি গুদামে সাড়ে ৪৫ হাজার শ্রমিক কর্মরত। এসব ঘাটে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার টন পণ্য খালাস হয়।

মজুরি বৃদ্ধিসহ ৯ দফা দাবিতে কর্ণফুলী নদীর ১৬ ঘাটে গত রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতি পালন করছে ঘাট শ্রমিকদের একাংশ। তারা জানিয়েছেন, সব ঘাটের শ্রমিকরাই ধর্মঘটে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করলে শ্রমিক লীগ সমর্থিত কিছু শ্রমিক সোমবার তাদের বাধা দেয়। এনিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তবে ধর্মঘটের বিরোধিতাকারী শ্রমিকরা বলছেন, মজুরি বৃদ্ধিসহ শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে ঘাটের ইজারাদার ও মালিকপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। চলতি মাসেই শ্রমিকদের সাথে বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। কিছু শ্রমিক তাদের ব্যক্তি স্বার্থ আদায়ের জন্যই সাধারণ শ্রমিকদের দিয়ে এ অন্যায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম ঘাট গুদাম শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব রাজা মিয়া হাওলাদার বলেন, দুবছর পরপর মজুরি ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথা থাকলেও গত ৩ বছর ধরে কোনো ধরনের মজুরি বাড়ানো হয়নি। তাই আমরা ৫০ শতাংশ মজুরি বাড়ানোর দাবী জানিয়েছি। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো সাড়া না দেওয়ায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছি।

তিনি বলেন, আমাদের এ ন্যায্য আন্দোলনের আহবায়ক ইদ্রিস আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইদ্রিস আলীকে মামলা থেকে অব্যাহতি ও দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি বন্ধ হবে না বলেও জানান তিনি।

এদিকে ধর্মঘটের বিরোধীতাকারী ঘাট-গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক বলেন, অনেক শ্রমিককে কর্মবিরতি পালন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। গতকাল কাজে যোগ দেওয়ায় ৫ জন শ্রমিককে মেরে আহত করা হয়েছে। গত মাসে মজুরি বৃদ্ধিসহ শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে ঘাটের ইজারাদার ও মালিকপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। তারা চলতি মাসে শ্রমিকদের সাথে বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এমন আশ্বাসও তারা দিয়েছে। তাই এ বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত হয় তা না জেনে কর্মবিরতিতে যাওয়া অযৌক্তিক ।

জাহাজ মালিকদের সংগঠন ওয়াটার ট্র্রান্সপোর্ট সেলের উপসচিব আতাউল করিম রঞ্জু জানান, অধিকাংশ ঘাটেই তৃতীয় দিনের মতো কর্মরিবতি চলছে। ফলে আজও পণ্য বোঝাই ৭৫ টি লাইটারেজ জাহাজ ও ৬ টি মাদার ভ্যাসেল কর্ণফুলীতে আটকা পড়ে আছে। এসব জাহাজে প্রায় ৯৫ হাজার টন পণ্য রয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, আটকে থাকা জাহাজের মধ্যে অধিকাংশই পণ্যই গম, মটর ডাল ও সারের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য । বাড়তি জাহাজ ভাড়া ও অর্ডার বাতিল হওয়ায় ক্ষতি হচ্ছে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকা । তাই বাজারে এ ধরনের পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অন্যায় আন্দোলনের মাশুল গুনতে হবে সাধারণ ভোক্তাদের।

ঘাট ঠিকাদার সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাশেম বলেন, দেশের অন্যান্য ঘাট যেমন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী, ভৈরবসহ দেশের অন্যান্য ঘাটের শ্রমিকদের তুলনায় চট্টগ্রামের শ্রমিকরা প্রায় দ্বিগুণ মুজরি পায়। তারপরও তাদের আরও মজুরি বৃদ্ধির দাবি অযৌক্তিক। কোন ধরনের আলোচনা ছাড়া জিম্মি করে এ ধরনের দাবি আদায়ের আন্দোলন অযৌক্তিক।

এসএম