‘সাহায্যের পরিবর্তে সমালোচনাতেই বেশি ব্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র’

0
95
tofayel
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ

রপ্তানি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্র মুখে অনেক বড় বড় কথা বললেও অবকাঠামো উন্নয়নে সাহায্যের পরিবর্তে সমালোচনাতেই বেশি ব্যস্ত থাকে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাপান এক্সটার্নাল অর্গানাইজেশন (জেট্রো) আয়োজিত ‘এশিয়ার অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিতঃ পূর্বের দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

unnamed
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাপান এক্সটার্নাল অর্গানাইজেশন (জেট্রো) আয়োজিত ‘এশিয়ার অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিতঃ পূর্বের দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সেমিনারে অতিথিরা।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনেক বড় বড় কথা বললেও দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। তাছাড়া আমাদের অবাকাঠামো উন্নয়নে সাহায্যের পরিবর্তে সমালোচনাতেই বেশি ব্যস্ত থাকে দেশটি। তাই পশ্চিমাদের পরিবর্তে পুবের দিকেই নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো ও অর্থনীতির উন্নয়নে চীন-জাপানসহ এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর ভুমিকা অনেক বড়। জাপানের বাজারে মাত্র দুটি পণ্য ছাড়া অন্য সব পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে। চীন, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশে শতভাগ প্রবেশাধিকার রয়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি এশিয়ার যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হার ৬ শতাংশের বেশি। খুব কম সংখ্যক দেশেরই এটি রয়েছে। শিশু মৃত্যুহার, মাতৃ মৃত্যুহার, জন্মনিয়ন্ত্রণসহ সামাজিক খাতগুলোতে বাংলাদেশ ভারতের চেয়েও অনেক এগিয়ে। তাই বাংলাদেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হত। তবে এখন দেশকে সবাই সমৃদ্ধশালী বলতে বাধ্য হচ্ছে। দেশের ব্যাংকিং খাত এখন অনেক এগিয়ে। আর তৈরি পোশাক শিল্পসহ রপ্তানি খাত যেভাবে এগোচ্ছে তাতে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ অবশ্যই মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে।

অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত এইচ ই শিরো স্যাডোশিমা বলেন, এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে মায়ানমার ও বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতি অনেক ভালো। তবে বিশ্বের যেকোনো দেশে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মায়ানমারের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধা পায়। ফলে এ দেশের অর্থনীতি খুব শিগগিরই ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প রপ্তানি প্রসারের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে। বর্তমানে জাপানের আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পণ্য মাত্র ২ শতাংশ। এটি আরও বাড়াতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক দ্রুত এগোবে।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল, এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরামসহ দেশী-বিদেশী বিখ্যাত অর্থনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

এইউ নয়ন/এআর/ইউএম/