আয়কর রিটার্ন: লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয়

0
150
nbr
রাজস্ব ভবন
income tax return
প্রতীকী ছবি

ইলেকট্রনিক ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নাম্বার (ইটিআইএন) দ্বারা নিবন্ধনের মাধ্যমে আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিলের সময় শেষ হলো আজ রোববার। তবে দুই দফা সময় বাড়িয়েও লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক দূরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ১৭ লাখ রিটার্নের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গত ২৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সাড়ে সাত লাখের কাছাকাছি রিটার্ন জমা পড়েছে।

অবশ্য নভেম্বরের ২০ তারিখের পরের রিটার্নের সঠিক হিসাব দিতে পারেনি এনবিআর।

এনবিআরের তথ্য মতে, ২০ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে রিটার্ন দাখিল করেছেন ৬ লাখ ৯ হাজার ৯৭৩ করদাতা। এর মধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ে ৬ লাখ ৩ হাজার ২৯২টি ও কোম্পানির পর্যায়ে ৬ হাজার ৬৮১টি আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে। আয়কর আদায় হয়েছে ১ হাজার ৮৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

রোববার দিনশেষে এ রিটার্নের সংখ্যা ৮ লাখ ও আয়করের পরিমাণ ১ হাজার ৩০০ কোটি ছাড়াবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

এনবিআর সূত্র জানায়, এবার ১৭ লাখ করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর আয়কর মেলার মাধ্যমে ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু করে এনবিআর। এর মধ্যে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় সাড়ে সাত লাখ করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন।

পূজা, ঈদ ও অর্থনৈতিক মন্দাবস্থার কথা বিবেচনা করে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর ও সর্বশেষ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপরেও লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি রিটার্ন পায়নি রাজস্ব আহরণের দায়িত্বে থাকা সংস্থাটি।

এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শুরু থেকেই যথেষ্ট শঙ্কা ছিল। আয়কর মেলায় কিছুটা সাড়া মিললেও পরবর্তীতে দুই দফা সময় বাড়িয়ে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে সময় শেষ হলেও নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে ও জরিমানা দিয়ে রিটার্ন বছরের যে কোনো রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে যারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারেননি তাদের জন্য আয়কর অধ্যাদেশ প্রযোজ্য হবে। রিটার্ন জমা না দেওয়ার পিছনে যৌক্তিক কারণ থাকলে তিনি কর অঞ্চলে আবেদন করে যে কোনো সময় তা জমা দিতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী টিআইএনধারীদের আয়কর বিবরণী জমা দেয়া বাধ্যতামূলক।

নির্ধারিত সময়ে আয়কর বিবরণী জমা না দিলে এককালীন ১ হাজার টাকা এবং পরবর্তী প্রতিদিনের জন্য বাড়তি ৫০ টাকা হারে জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে কেউ সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের সহকারী কর কমিশনার বরাবর আবেদন করলে নির্ধারিত সময়ের পরও বিবরণী জমা নেয় এনবিআর।