আবেগের টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিশাল জয়

0
81
print

ফিল হিউজের মৃত্যুতে বন্ধ ছিল টেস্টর দ্বিতীয় দিনের খেলা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারের অকস্মাৎ মৃত্যুতে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড দুই দলই গভীর শোকে আচ্ছন্ন। তবে কিউইদের শোকটা একটু বেশিই। হিউজ যে তাদের বাড়ির পাশের ক্রিকেটার!

হিউজকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ায় উঠা আবেগের ঢেউ তাসমান সাগর পেরিয়ে আছড়ে পড়েছে নিউজিল্যান্ডেও। সেই আবেগের তোড়ে তৃতীয় টেস্টে বিশাল জয় তুলে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানকে পরাজিত করেছে ইনিংস ও ৮০ রানের ব্যবধানে। এই জয়ে ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি শেষ পর্যন্ত  ১-১ এ ড্র করতে পারল কিউইরা।

পাকিস্তানের আরও একটি উইকেট পতনে জয়ের আরও কাছে কিউইরা। রোববার শারজায় তৃতীয় টেস্টে।
পাকিস্তানের আরও একটি উইকেট পতনে জয়ের আরও কাছে কিউইরা। রোববার শারজায় তৃতীয় টেস্টে।

আর এই পরাজয়ে ২ মাসের মাথায়ই মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলো পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও প্রথম টেস্টে আধিপত্য বজায় রেখে জিতেছিল। যদিও দ্বিতীয় টেস্টে এসে মিসবাহদের জয়রথ থামিয়েছিল কিউইরা। আর শারজায় তৃতীয় টেস্টে হারই উপহার দিল তাদের।

আসাদ শফিক আর সরফরাজ আহমেদ ঘুরে না দাঁড়ালে মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই পর্দা নামতো এই টেস্টের।

১৪৮ বলে ১৩৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে ইনিংস পরাজয় এড়ানোর দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন শফিক। কিন্তু ট্রেন্ট বোল্টের বেলে মার্ক ক্রেইগের হাতে ক্যাচ দিয়ে শফিক ফিরে গেলেই পাকিস্তানের ইনিংস পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ১৮টি চার আর ৬টি ছক্কায় সাজানো ছিল আসাদ শফিকের ১৩৭ রানের ইনিংস। সৌদির বলে আউট হওয়ার আগে সরফরাজ করেন ৩৭ রান।

এদিন ইউনিস খানও মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখেছেন। অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড সিরিজে ইউনিস খানের যে ব্যাট জ্বলে উঠেছিল, সেই ব্যাটই দ্বিতীয় ইনিংসে এসে দপ করে শূন্য রানেই নিভে গেল। শুধু ইউনিস নন, এতদিন যাদের ব্যাটে রানের বন্যা বইছিল, সেই মোহাম্মদ হাফিজ, আজহার আলি কিংবা মিসবাহ-উল হকের ব্যাটে এদিন মরুর খরা।

প্রথম ইনিংসে ৩৩৯ রান পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেই বিপদে পড়ে পাকিস্তান। কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্টের তোপের মুখে মাত্র ৬৩ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। মোহাম্মদ হাফিজ (২৪), মিসবাহ উল হক (১২), শান মাসুদ (৪), আজহার আলি (৬), ইউনিস খান (০) দ্রুত ফিরে যান। এরপর ৭৩ রানের জুটি গড়েন সরফরাজ আহমেদ আর আসাদ শফিক। সরফরাজ আউট হন ৩৭ রান করে।

কিউইদের পক্ষে ট্রেন্ট বোল্ট ৪টি, মার্ক ক্রেইগ ৩টি, ইশ সৌদি ২টি এবং ভেট্টোরি নেন ১টি করে উইকেট।

এর আগে রোববার শারজা টেস্টের ৪র্থ দিনে নিউজিল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে ১৪৩.১ ওভার ব্যাট করে ৬৯০ রান করে অলআউট হয়। টেস্ট ক্রিকেটের কোন ইনিংসে এটাই কিউইদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।  অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম করেন সর্বোচ্চ ২০২ রান। এছাড়া ১৯২ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন কেন উইলিয়ামসন। ৮ রানের জন্য ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ থেকে বঞ্চিত হন এই ব্যাটসম্যান।

পাকিস্তানের পক্ষে ৪টি করে উইকেট নেন রাহাত আলি এবং ইয়াসির শাহ। এছাড়া বাকি ২ উইকেট নেন মোহাম্মদ হাফিজ।

প্রথম ইনিংসে ৭টি আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে ইনিংস পরাজয়ের স্বাদ উপহার দেওয়ায় বড় ভুমিকা রাখা ক্রেইগ হয়েছেন ম্যাচ সেরা। আর সিরিজজুড়ে ধারবাহিক পারফর্মন্সের জন্য সিরিজ সেরার পুরস্কার উঠেছে মোহাম্মদ হাফিজের হাতে।

এআর/