সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক জগলুল আহমেদের মৃত্যু

0
86
Zaglul
জগলুল আহমেদ চৌধূরী-ফাইল ছবি
Zaglul
জগলুল আহমেদ চৌধূরী-ফাইল ছবি

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াদির বিশ্লেষক জগলুল আহমেদ চৌধূরী (৬৫) সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাসের ধাক্কায় তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ইংরেজি দৈনিক ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর উপদেষ্টা ছিলেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সোয়া ৮ টার দিকে বাংলামোটর হয়ে আসা একটি মিনিবাস কারওয়ান বাজারে সোনারগাঁও মোড়ে পুলিশের ট্রাফিক বক্সের সামনে থামে। জগলুল আহমেদ ওই মিনিবাস থেকে নামার জন্য পা বাড়ান। কিন্তু তিনি এক পা নামানোর সঙ্গে সঙ্গে বাসটি সজোরে টান দেয়। এতে তিনি সড়কে পড়ে গিয়ে ওই মিনিবাসের এক পাশের সঙ্গে মাথায় প্রচণ্ড ধাক্কা খান। সড়কে ছিটকে পড়েন তিনি। মিনিবাসটি দ্রুতগতিতে ফার্মগেটের দিকে চলে যায়।

৩ যুবক তাকে রাজধানীর পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে গ্রিন রোডের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দৈনিক ভোরের কাগজ-এর সম্পাদক শ্যামল দত্ত সাংবাদিকদের জানান, তার উপস্থাপনায় এটিএন বাংলায় প্রচারিত টকশোতে সার্কসংক্রান্ত আলোচনার একজন অতিথি ছিলেন জগলুল আহমেদ। রাত ঠিক ৮টার দিকে জগলুল আহমেদ তাকে ফোন করে জানান, তিনি কারওয়ান বাজার পৌঁছে গেছেন। টকশো অনুষ্ঠান ধারণের সময় ছিল সাড়ে ৮ টা। কিন্তু অনেকক্ষণ হয়ে গেলেও তিনি আসছিলেন না দেখে তিনি বারবার তার মুঠোফোন নম্বরে কল করেন। কিন্তু কেউ ধরছিল না। পরে একজন অতিথি দিয়েই টক শো অনুষ্ঠান ধারণ করা হয়। পরে আবার ফোন করলে এক যুবক ধরে দুর্ঘটনার কথা জানান।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল জানান, মিনিবাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

প্রবীণ এ সাংবাদিকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শোক জানিয়েছেন।

বনানীর ৬ নম্বর রোডে এক বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন জগলুল আহমেদ। তার ২ সন্তান। বড় ছেলে নাভিদ আহমেদ চৌধূরী একটি মুঠোফোন কোম্পানির কর্মকর্তা। মেয়ে অন্তরা আহমেদ চৌধূরী পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।

জগলুল আহমেদের লাশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

তার ছেলে নাবিদ আহমেদ চৌধুরী জানান, বোন অন্তরা আহমেদ চৌধুরী দেশে ফিরলে তারা বাবার দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

এএসএ/