এক মাঠেই ৬ হাজার মহিষ বলি!

0
385
নেপালে গাধিমাই উৎসব উপলক্ষে এক মাঠেই বলি দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার মহিষ!
নেপালে গাধিমাই উৎসব উপলক্ষে এক মাঠেই বলি দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার মহিষ!

ভারতের পর পৃথীবিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগোষ্ঠির দেশ নেপাল। বারো মাসে তের পার্বনের রীতি হিমালয়ের কোলঘেঁষা দেশটির সংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধশালী। তবে এই সংস্কৃতির চর্চার কিছু কিছু বিষয় আধুনিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সাথে সাংঘর্ষিক। পশু বলি উৎসব- তার একটি। ৫ বছর অন্তর বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে এই উৎসব পালন করা হয়। যদিও অনেক পশু অধিকার রক্ষা কমিটি বা সংগঠন এই উৎসব বন্ধে বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু তবু বন্ধ হয়নি শত বছর পুরনো এই উৎসব।

শুক্রবার সকালে রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ১০০ মাইল উত্তরে ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী বারা জেলার বারিয়ারপুর গাধিমাই মন্দিরে শুরু হয়েছে এই উৎসব। এরই মধ্যে মন্দিরের সামনের মাঠে ৬ হাজার মহিষ বলি দেওয়া হয়েছে। এবারের উৎসব উপলক্ষে ছাগল, পাঁঠা ভেড়া, মুরগি, কবুতরসহ প্রায় ৩ লাখ পশু-পাখি বলি দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশটির সাধারণ হিন্দুদের বিশ্বাস, প্রতি ৫ বছর অন্তত শক্তির দেবী গাধিমাইয়ের উদ্দেশ্যে পশু বলি দিলে সমাজসহ সংসারের কল্যাণ হয়। এই উৎসবটি যতটা পারিবারিক তার চেয়েও বেশি সামাজিক। কারণ ৫ বছর অন্তর দেওয়া পশু বলি যদি ঠিকঠাক মতো হয় তাহলে পর্বতমাতা সন্তুষ্ট হয়ে সম্প্রদায়ের সবার মঙ্গল করেন- এরকম বিশ্বাস আজও প্রচলিত আছে নেপালে।  ২ দিনব্যাপী উৎসবে এবার ২ লাখেরও বেশি হিন্দু ধর্মাবলম্বী অংশগ্রহণ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবছর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বিপুল সংখ্যক মহিষ, ভেড়া, ছাগল নেপালে আনা হয় বলির জন্য। তবে এবার ভারত সরকার পরিবেশবাদীদের পক্ষ নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে নেপালে মহিষ, ভেড়া ইত্যাদি নিতে দেয়নি।

গাধিমাই উৎসবের আয়োজন ৪১ বছর বয়সী ধীরেন্দ্র সিং জানান, ‘মহিষ পাঠানো বন্ধ করে দেওয়া ভারত সরকারের উচিত হয়নি। তারা আমাদের ধর্ম বিশ্বাসের উপর আঘাত হেনেছে। এটা সত্যিই খারাপ। আমরা কখনোই থামবো না, বরং চালিয়ে যাবো। এবছর আগের বারের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ এই উৎসবে শামিল হতে এসেছে’। সূত্র: ডেইলি মেইল