‘বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করা হবে’

0
89
hasina
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি)
hasina
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি)

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও সক্ষম করে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হবিগঞ্জের বিবিয়ানায় দেশের সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্রে শনিবার কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধনের পর এক বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

হেলিকপ্টারে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বিবিয়ানায় নেমে ৪টি প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি অপর ৪টির ভিত্তিস্থাপন করে ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাপেক্সেকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। দক্ষতা অনুযায়ী স্থলে অনুসন্ধান করছে তারা, কিন্তু সমুদ্রে বিশেষ করে গভীর সমুদ্রে তাদের অভিজ্ঞতা নেই। এর জন্য সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করব আমরা।

তিনি বলেন, ‘সরকার গঠন করার পর স্বল্প, দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী কাজ করছে সরকার। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষে কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হবে। নিজেদেরও শক্তিশালী করতে হবে।

মিয়ারমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে যে বিশাল এলাকা বাংলাদেশের অধিকারে এসেছে, সেখানে গ্যাসের পাশাপাশি তেলও পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

১৯৯৬ সালের সরকারের গঠনের পর বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে টেন্ডার করেছিলাম। তখন শেভরনসহ অনেক কোম্পানি অংশ নিয়েছিল। কিন্ত ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে কোনো কাজ করেনি। অনেক চলমান কাজও তারা বন্ধ করে দিয়েছিল।

বিএনপির সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল না মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশ পিছিয়ে যাচ্ছিল। ২০০৯ সালের পর ২০১৪ সালেও জনগণ আমাদেরকে নির্বাচিত করায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে সুন্দলপুর, শ্রীকাইল ও রূপগঞ্জ ক্ষেত্র আবিষ্কার করা হয়েছে। আবিষ্কৃত ক্ষেত্রগুলো অন্যান্য উন্নয়নকূপ ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রমের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে।

দেশে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২৪৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হলেও চাহিদা আরও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদিও এটা চাহিদার তুলনায় অনেক কম, তবে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহের জন্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

‘হাটিকুমরুল-ভেড়ামাড়া’ পাইপলাইনের কাজ শেষ হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ সম্প্রসারিত হবে বলেও জানান তিনি।

পরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে বিবিয়ানা বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত সংযোগ সড়ক এবং নবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বিবিয়ানা দক্ষিণ ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিবিয়ানা-৩ ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিস্থাপন করেন এবং বিবিয়ানা-২ ৩৪১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

বিবিয়ানা থেকে হবিগঞ্জ শহরে যান তিনি।

পরে নিউ ফিল্ডে এক জনসভায় ভাষণ এবং উন্নয়নমূলক প্রায় এক ডজন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিস্থাপনের কথা রয়েছে তার।

হবিগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তার মধ্যে রয়েছে- হবিগঞ্জ আধুনিক স্টেডিয়াম; হবিগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতাল; হবিগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট; হবিগঞ্জ নতুন জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম ও কমিউনিটি সেন্টার; হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবন; হবিগঞ্জ সার্ভার স্টেশন; আলেয়া জাহির কলেজ; জেলা কমান্ড্যান্ট, আনসার ও ভিডিপি অফিস ভবন; বানিয়াচং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন; শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন এবং হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ উন্নয়ন কার্যক্রম।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ও শাহজীবাজার (৩০০ মেগাওয়াট) কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টও হবিগঞ্জে বসেই উদ্বোধন করবেন তিনি।

এদিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শেভরনের জানিয়েছে, বিবিয়ানার সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হবে। এর ফলে শেভরন পরিচালিত তিনটি ক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট।