অভিবাসন রোধে ইইউকে হুশিয়ারি ব্রিটেনের

0
109
Uk and Eu
যুক্তরাজ্য এবং ইইউর পতাকা (ফাইল ছবি)
Uk and Eu
যুক্তরাজ্য এবং ইইউর পতাকা (ফাইল ছবি)

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যে অভিবাসন বন্ধের লক্ষ্যে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।

শুক্রবার এক খবরে বিবিসি জানিয়েছে, এসব প্রস্তাবের ব্যাপারে সমঝোতা না হলে যুক্তরাজ্য গণভোটের মাধ্যমে ইইউ ত্যাগ করতে পারে বলেও হুশিয়ারি জানিয়েছেন তিনি।

এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে আসা লোকজন যাতে সহজে সরকারী ভাতা ও সুযোগ সুবিধা না পায়, সেজন্যে নিয়মকানুন কঠোর করা।

ক্যামেরন বলেন, তিনি ইইউর দেশগুলোর মধ্যে অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে চান না। বরং তিনি এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে চান, যাতে ইউরোপের যারা কাজের সন্ধানে আছেন – তাদের জন্য ব্রিটেন ‘কম আকর্ষণীয় গন্তব্যে’ পরিণত হয়।

তাই তার প্রস্তাব, ইইউ থেকে যারা ব্রিটেনে আসবে তারা চার বছর থাকার আগে পর্যন্ত তেমন কোনো সরকারি কল্যাণভাতা পাবে না।

ক্যামেরন আরও বলেন, ভবিষ্যতে যারা কর রেয়াত, শিশু কল্যাণ ভাতা পেতে চান -তাদেরকে অবশ্যই এদেশে অন্তত চার বছর থাকতে হবে এবং এদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে হবে। তাদের সন্তান যদি অন্য দেশে বাস করে, তাহলে এসব ভাতা তারা পাবেন না; তা তারা যতদিনই ব্রিটেনে বাস করুন না কেন, বা যত করই দিয়ে থাকুন না কেন। কাউন্সিল থেকে বাড়ি পেতে হলেও আপনাকে অন্তত চার বছর এদেশে থাকতে হবে।

এছাড়া ইউরোপ থেকে আসা অভিবাসীরা ছ’মাস কাজ ছাড়া থাকলে তাদের দেশে ফিরে যেতে হবে বলে প্রস্তাব দিয়েছেন ক্যামেরন।

তিনি বলেন, ইমিগ্রেশনের জন্য ব্রিটেন লাভবান হচ্ছে ঠিকই কিন্তু এটা হতে হবে নিয়ন্ত্রিত এবং জাতীয় স্বার্থের অনুকুল।

ক্যামেরনের আশা, তার এই পরিকল্পনা ইইউর অন্যন্য নেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং ইউরোপবিরোধী ইউকে ইন্ডিপেনডেন্স পার্টি বা ইউকিপের উত্থান ঠেকানো যাবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ইইউর সাথে আলোচনার মাধ্যমে যদি এই লক্ষ্য অর্জিত না হয়, তবে এ ব্যাপারে গণভোটের পর তার দেশ ইইউ থেকে বেরিয়েও যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, অনেকদিন ধরেই অভিবাসনকে কেন্দ্র করে ব্রিটেন ইইউতে থাকা না থাকার প্রশ্নে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। ব্রিটিশ ভোটারই চাইছেন অভিবাসন ব্যাপকভাবে কমানো হোক।

ক্যামেরনও ব্রিটেনে ইমিগ্রেশন “লক্ষ লক্ষ” থেকে “হাজার হাজারে” কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এসেছিলেন । কিন্তু ব্রিটেনে অভিবাসীর নেট সংখ্যা এখন বছরে আড়াই লক্ষেরও বেশি করে বাড়ছে।

ব্রিটেনে আগামী বছরই সাধারণ নির্বাচন। এ কারণে ক্যামেরনের কনজারভেটিভ পার্টি এখন থেকে ইমিগ্রেশনবিরোধী দলগুলোর দিক থেকে চাপের মুখে পড়েছে।

তাই অভিবাসনের লাগাম টেনে ধরতে ইইউর ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন তিনি।