মার্কিন সেনাদের যৌনসেবার ক্ষতিপূরণ চান কোরিয়ার নারীরা

0
99
seoul-prostitute_getty
jang-young-mi_ap
ভুক্তভোগীদের একজন জে ইয়ং মি’র তরুণ বয়সের ছবি

দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সেনাক্যাম্পে যৌন সেবা দানকারী নারীরা দেশটির সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবিতে মামলা করতে যাচ্ছেন।

শুক্রবার এক খবরে বিবিসি জানিয়েছে, ১২০ জনের বেশি কোরিয়ান নারী নিজ দেশের সরকারের কাছ থেকে প্রত্যেকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

তাদের অভিযোগ, কোরিয়ার সরকার সক্রিয়ভাবে তাদের পতিতাবৃতিতে সহায়তা করেছে। কিন্তু নিয়ম-নীতির কারণে এখন বার্ধক্যে এসে তারা নিদারুণ দারিদ্রের মুখে পড়েছেন।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার ইউজেংবুতে মার্কিন সেনাক্যাম্পের কাছে অবস্থিত এক কমিউনিটি সেন্টারে জমায়েত হয়ে সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ এবং স্বীকৃতি দাবি করেন তারা।

তারা বলেন, আমরা সারারাত ধরে কাজ করেছি। আমরা কোরিয়া সরকারের সৃষ্ট ‘নিয়মের স্বীকৃতি’ এবং ক্ষতিপূরণ চাই।

তারা জানান, মার্কিন ক্যাম্পে কাজ করার সময় সেনাদের যৌন নিরাপত্তার জন্য তাদেরকে নিয়মিত চেক-আপ করাতে হতো, যার কারণে তারা এখন ফতুর হয়ে পড়েছেন।

jang young-mi_ap
বর্তমানে জে ইয়ং মি

এসব নারী আরও জানান, তারা দারিদ্রের ফাঁদে পড়ে এ পেশায় ঢুকে পড়েন এবং এ থেকে আর বের হতে পারেননি। এ পেশার জন্য অন্যরা গালাগালি করলেও তাদের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থকে সবসময় স্বাগত জানিয়েছে।

তারা আরও জানান, বিদেশি মুদ্রা উপার্জনের উদ্দেশ্য সরকার নীরবে এ কাজকে অকথিত অনুমোদন দিয়েছিল।

তাই এখন তারা সরকারের কাছে ক্ষরিপূরণ চান।

প্রসঙ্গত, কোরিয়ান উপদ্বীপে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ১৯৫৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় বেস ক্যাম্প স্থাপন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭০ সালের দিকে এ ক্যাম্প প্রত্যাহারের সম্ভাবনার কথা শোনা গিয়েছিল। তবে এখনও পর্যন্ত সে ক্যাম্প সরানো হয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার মার্কিন সেনাক্যাম্পে পতিতাবৃতি নিয়ে লিখিত বই ‘সেক্স অ্যামোং আল্যাইস’এর লেখক ড. ক্যাথি মুনও জানান, সত্তরের দশকে কোরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু কর্মকর্তা ক্যাম্প টাউনে গিয়ে মার্কিন সেনাদের যৌনসেবা দেওয়ার জন্য স্থানীয় পতিতাদের উৎসাহিত করেছিলেন।

তিনি বলেন, ওই সময়ে মার্কিন সেনাদের সন্তুষ্ট রাখাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, কেননা আশঙ্কা ছিল যে যুক্তরাষ্ট্র সেনা সরিয়ে নিতে পারে।

মুন আরও বলেন, এই কারণে কোরিয়ান নারী হিসেবে নয় বরং মার্কিন সেনাদের স্বার্থে ওই পতিতাদের নিয়মিত চেক-আপ করাতে হতো। স্বাস্থ্যকর্মীরা শুধু তাদের যৌন স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আগ্রহী ছিল, অন্য কোনো রোগে তাদের সেবা দেওয়া হতো না।