হিসাব জালিয়াতির দায় অডিটরের ওপর চাপাতে চায় অলটেক্স

0
127
অলটেক্সের লোগো
অলটেক্সের লোগো
অলটেক্সের লোগো

হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির মুনাফা দেখালেও তার দায় নিজের কাঁধে নিতে চাচ্ছে না অলটেক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ। বরং সব দোষ চাপাতে চাচ্ছে কোম্পানির হিসাব নিরীক্ষকের (অডিটর) ওপর।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চিঠির জবাবে অডিটর প্রতিষ্ঠানটিকে দোষী বলে দাবি করেছে অলটেক্স কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ, পাঁচ বছর পর গত ২৮ অক্টোবর লভ্যাংশ ঘোষণা করে বিতর্কিত কোম্পানি অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ। ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ১0% লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। আলোচিত বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দেখানো হয় ২ টাকা ৫৬ পয়সা।

৩ নভেম্বর দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে কোম্পানিটির নিরীক্ষক ম্যাবস অ্যান্ড জে পার্টনার্স এর কিছু পর্যবেক্ষণ প্রকাশিত হয়। ওই পর্যবেক্ষণে ফাঁস হয়ে যায় ইপিএস নিয়ে অলটেক্সের জালিয়াতি। পর্যবেক্ষণে জানা যায়, কোম্পানিটি আলোচিত বছরে ঋণের সুদ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেনি। এটি করলে উল্টো শেয়ার প্রতি ৩ টাকা লোকসান হতো।

একই দিনে কোম্পানির হিসাব জালিয়াতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে অর্থসূচক। এটি সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে বেশ সাড়া জাগায়। বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিরও নজরে আসে।

গত ১৩ নভেম্বর এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে কোম্পানিকে একটি চিঠি দেয় বিএসইসি। ওই চিঠিতে কোম্পানিটির আর্থিক বিবরণীর ওপর নিরীক্ষক ম্যাবস অ্যান্ড জে পাটনার্স চার্টাট এ্যাকাউন্টস যে তিনটি মন্তব্য করেছিল, সে বিষয়ে কোম্পানির বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। উত্তর দেওয়ার জন্য সংস্থাটি তিন দিন সময় বেঁধে দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কমিশনের কাছে জবাব দেয় কোম্পানিটি।

জানা গেছে, এ জবাবে কোম্পানিটি তাদের অডিট ফার্মের ওপর দোষ চাপিয়েছে। এ জন্য এ বিষয়টি পরিস্কার করার জন্য অটিড ফার্মকে মঙ্গলবার চিঠি ইস্যু করেছে বিএসইসি। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের অবস্থান পরিস্কার করার জন্য।

এ বিষয়ে অর্থসূচকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ম্যাবস অ্যান্ড পার্টনার্সের সদস্য নাছির উদ্দিন আহমেদ ও সি আর মজুমদার কেউ কোনো কথা বলতে রাজী হননি।

এ বিষয়ে কোম্পানির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আফছার উদ্দিন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত সচিব ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ আসিফ দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

কোম্পানিটির শেয়ার বিভাগের কর্মকর্তা মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন অর্থসূচককে বলেন, বিএসইসি আমাদের কাছে আমাদের হিসাবের বিষয়ে যা জানতে চেয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা আমাদের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়েছি।।

তিনি বলেন, আমারা অডিটরসকে আমাদের কারখানা পরিদর্শন করতে বললেও তারা তা করেননি। পরিদর্শন না করে তারা তাদের মতো প্রতিবেদন দিয়েছে। যা আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনামের সঙ্গে যায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা অর্থসূচককে বলেন, অলটেক্সের হিসাব নিয়ে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান যে মন্তব্য করেছে তার ব্যাখ্যা চাওয়া হলে কোম্পানিটি তার জবাব দিয়েছে। ব্যাখ্যায় তারা ওই ঘটনার জন্য অডিট ফার্মকে দোষারোপ করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে পরিস্কার হতে বিএসইসি তাই কোম্পানির অডিটর ম্যাবস্ অ্যান্ড জে পার্টনার্সের বক্তব্য চেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য পাওয়ার পর সব কিছু পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বিএসইসি।

অর্থসূচক/জিইউ