‘প্রাথমিকে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ গুজব, ভিত্তিহীন’

0
88
psc
প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থী। ফাইল ছবি
psc
ফাইল ছবি

চলমান সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও তথ্য বিভ্রাট বলে দাবি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ রায় স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিবছরের মতো ২০১৪ সালের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২৩ নভেম্বর থেকে সারাদেশে একযোগে উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে শুরু হয়েছে।

এতে বলা হয়, এ বছর প্রায় ৩১ লাখ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় লক্ষ্য করছে যে, পরীক্ষা শুরুর পরদিন থেকে অদ্যাবধি বিভিন্ন সামাজিক ও গণমাধ্যম এ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করে যাচ্ছে। প্রচারিত প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি মন্ত্রণালয় প্রথম থেকে গুরুত্বসহকারে বিচার বিশ্লেষষণ ও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে আসছে।


ফেসবুকেও ফাঁস হচ্ছে প্রাথমিকের প্রশ্ন


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন সামাজিক ও গণমাধ্যমে প্রশুপত্র ফাঁস সংক্রান্ত সংবাদে জনমনে উদ্বেগ ও সৃষ্ট অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি অনুধাবন করে বুধবার মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছেন। ফেসবুকে প্রাপ্ত প্রশ্ন বা সাজেশন এবং এ যাবত অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পুংখানুপুংখভাবে মিলিয়ে দেখা হয়। কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বিচ্যুতির কারণে এ ধরনের ঘটনার উদ্ভব কিনা তাও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। কিন্তু সার্বিক পর্যালোচনা শেষে প্রতীয়মান হয় যে, ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রশ্নের সাথে সমাপনী পরীক্ষায় সরবরাহকৃত প্রশ্নের কোনো সামঞ্জস্য নেই।

এতে বলা হয়, প্রশুপত্র ফাঁস হলে পরীক্ষার বিষয় ভিত্তিক প্রশ্নের সাথে ফেসবুকে পাওয়া প্রশ্নপত্রের মিল থাকার কথা; কিন্তু তার প্রমাণ মেলেনি। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রতীতি জন্মেছে যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সংবাদটি একটি গুজব, ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং তথ্য বিভ্রাটও বটে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষা। এ পরীক্ষার সাথে লাখ লাখ কোমলমতি শিক্ষার্থীর ভাগ্য এবং অভিভাবকদের স্বার্থ জড়িত। বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ চিন্তা করে চলমান সমাপনী পরীক্ষা সম্পর্কে এ ধরণের হীন, অসত্য, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও সন্দেহমূলক সংবাদ প্রচার না করা এবং শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতার জন্য সর্বস্তরের জনগণ ও গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানানো হল। এ ব্যাপারে অভিভাবকদেরও অহেতুক উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছর বাংলাদেশের ছয় হাজার ৭৯১টি এবং দেশের বাইরে ১১টি কেন্দ্রে পঞ্চম শ্রেণির ২৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৪ জন এবং মাদ্রাসার তিন লাখ পাঁচ হাজার ৭২১ জন শিক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।