১২৪ রানের জয়ে সিরিজ টাইগারদের

0
136
২ ম্যাচ হাতে রেখেই ৩-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল মাশরাফি বাহিনী

তৃতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১২৪ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। বুধবার মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের ২৯৭ রানের জবাবে ৩৯.৫ ওভারে ১৭৩ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। ওপেনিংয়ে নেমে অনবদ্য ৯৫ রান করার সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠেছে এনামুল হকের হাতে।

ওয়ানডেতে রানের হিসাবে এটি বাংলাদেশের ৪র্থ সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়।  ২০১২ সালে খুলনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাওয়া ১৬০ রানের জয়টি টাইগারদের সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানে জয়ের তালিকায় শীর্ষে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশের করা ২৯২ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৩৩ রানেই অলআউট হয় ক্যারিবীয়রা।

এটি বাংলাদেশের ১৬তম সিরিজ জয়; জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৮ম। ২০১০ সালের পর এই প্রথম জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জিতল টাইগাররা।

২ ম্যাচ হাতে রেখেই ৩-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল মাশরাফি বাহিনী
২ ম্যাচ হাতে রেখেই ৩-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল মাশরাফি বাহিনী

সফরকারীদের জন্য আজ ছিল সিরিজে টিকে থাকার লড়াই। তবে টাইগাদের ছুঁড়ে দেওয়া ২৯৭ রান তাড়া করতে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইন আপ।

জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শুরুতেই দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ভুসি সিবান্দা ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

মাশরাফির করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ৯ রানে আরাফাত সানির হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সিবান্দা। তিনি করেন ৯ রান।

এরপর ৫ম ওভারের প্রথম বলে আবারও আঘাত হানেন মাশরাফি। এবার তার শিকার মাসাকাদজা। উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তিনি করেন ১২ রান।

ইনিংসের ৮ম ওভারে দলীয় ৩৯ রানে জিম্বাবুয়ের তৃতীয় উইকেটের পতন হয়। রুবেল হোসেনের করা ওই ওভারের শেষ বলে মাশরাফির হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যান টিমিসেন মারুমা। তিনি করেন ৮ রান।

১৮তম ওভারে দলীয় ৮০ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। আরাফাত সানির করা ওই ওভারের শেষ বলে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন সলোমন মিরে। তিনি করেন ১২ রান।

পরেই ওভারেই আঘাত হানেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ব্রেন্ডন টেলরকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান তিনি। টেলর করেন ২৮ রান।

এরপর দলীয় ১১৯ রানে চাকাব্বাকে বোল্ড করে জিম্বাবুয়ের ৬ষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটান মাহমুদুল্লাহ। চাকাব্বা করেন ১৪ রান।

৩১তম ওভারে দলীয় ১২৬ রানে জিম্বাবুয়ের ৭ম উইকেটের পতন হয়। রুবেল হোসেনের করা ওই ওভারের দ্বিতীয় বলে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন পিটার মুর। তিনি করেন ২ রান।

এরপর মাদভিজা, পানিয়াঙ্গারা ও কামুনগেজিকে আউট করে বাংলাদেশের ম্যাচ ও সিরিজ জয় নিশ্চিত করেন আরাফাত সানি। সানি নিয়েছেন ৪ উইকেট।

এর আগে দুপুরে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক এল্টন চিগুম্বুরা।

ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৯৭ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিকরা।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯৫ রান করেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আনামুল হক। এছাড়া তামিম ও সাকিব দু’জনেই ৪০ রান করেন।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে পানিয়াঙ্গারা ২টি এবং মাসাকাদজা, মাদজিবা ও কামুনগোজি একটি করে উইকেট পান।

বাংলাদেশ একাদশে আজ একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। পেসার আল আমিনের জায়গায় খেলেছেন শফিউল ইসলাম। অপরদিকে জিম্বাবুয়ের একাদশে ছিল ৩টি পরিবর্তন।

সিরিজের ৪র্থ ম্যাচ ২৮ নভেম্বর। একই ভেন্যুতে খেলা শুরু হবে দুপুর সাড়ে ১২টায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯৭/৬ (তামিম ৪০, এনামুল ৯৫, মুমিনুল ১৫, সাকিব ৪০, মুশফিক ৩৩, মাহমুদুল্লাহ ৩৩*, সাব্বির ২২, মাশরাফি ২*; পানিয়াঙ্গারা ২/৫৪, মাসাকাদজা ১/২৫, কামুনগোজি ১/৪০, মাদজিভা ১/৬০)

জিম্বাবুয়ে: ৩৯.৫ ওভারে ১৭৩ (মাসাকাদজা ১২, সিবান্দা ৯, মারুমা ৮, টেলর ২৮, মায়ার ১২, চাকাব্বা ১৪, চিগাম্বুরা ৫৩*, মুর ২, মাদজিভা ১১, পানিয়াঙ্গারা ০, কামুনগেজি ৪; সানি ৪/২৭, রুবেল ২/২২, মাশরাফি ২/২৪, সাকিব ১/১৯, মাহমুদুল্লাহ ১/২৯)

এআর/