মার্জিন ঋণ গ্রহীতাদের তালিকা সিআইবিতে যাচ্ছে না

0
134
broker house
ব্রোকারহাউজ-ফাইল ফটো
broker house
ব্রোকারহাউজ

পুঁজিবাজারে ১ কোটি টাকার বেশি মার্জিন ঋণধারী বিনিয়োগকারীদের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবিতে যাচ্ছে না। বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) ওই তালিকা সিআইবিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল।গত সপ্তাহে বিএমবিএ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রস্তাব করেছিল। বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, এ প্রস্তাবে তারা সাড়া না দেওয়ার কথা ভাবছেন।

বিএমবিএর ওই প্রস্তাব সম্পর্কে রোববার দুপুরে অর্থসূচকে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এর তীব্র প্রভাব পড়ে বাজারে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৬০ পয়েন্ট কমে যায়।এর ধারাবাহিকতায় সোমবারও ডিএসইএক্সের ৬৯ পয়েন্ট পতন হয়।

জানা গেছে, বিএমবিএর প্রস্তাব এবং বাজারে তার প্রভাব নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা হয়। তারা বিএমবিএর প্রস্তাবটিকে অসময়োচিত বলে মনে করছেন।

সোমবার বিকালে এ বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা জানতে বিএসইসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খায়রুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি মার্জিন ঋণ গ্রহীতার তালিকা সিআইবিতে পাঠানো না পাঠানোর বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে রাজী হননি। তবে অর্থসূচককে তিনি বলেন, তারা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির কারণ হবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, তারা যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে তার সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করে দেখেন। কেউ কোনো প্রস্তাব নিয়ে এলেই সেটি বিএসইসি গ্রহণ করে না। ওই প্রস্তাবের ভালো-মন্দ যাচাই করার পরই কেবল সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএমবিএ’র প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও তা-ই করা হবে।

উল্লেখ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) দেশের সব ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ঋণগ্রহীতাদের তথ্য সংরক্ষণ করে। যে কোনো ব্যাংক বা এনবিএফআইকে কোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার আগে বিআইবি থেকে ওই গ্রাহক সম্পর্কে তথ্য নিতে হয়। কোনো গ্রাহক ঋণ খেলাপি হলে তাকে আর নতুন ঋণ দেওয়া যায় না।

মার্জিন ঋণ খেলাপি ব্যক্তির নাম সিআইবিতে অন্তর্ভূক্ত হলে তিনি ওই ঋণ শোধ না করা পর্যন্ত দেশের কোনো ব্যাংক বা এনবিএফআই থেকে ঋণ নিতে পারবেন না। ওই বিনিয়োগকারী কোনো কোম্পানির পরিচালক হয়ে থাকলে সে প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে আসার অনুমতি পাবে না। তিনি কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালক হলে ওই কোম্পানির রিপিট আইপিও বা রাইট শেয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারবে না বিএসইসি।

এসব কারণে বিএমবিএ’র প্রস্তাবটি নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ আতঙ্ক অনেকটাই অযৌক্তিক। এটি শুধুই প্রস্তাব পর্যায়ে আছে। বিএসইসি সেটি গ্রহণ করবে কি-না তা স্পষ্ট নয়। তাছাড়া ১ কোটি টাকার বেশি মার্জিন ঋণধারীর সংখ্যা খুব বেশি নয়।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) চিঠিতে বলা হয়েছে, বড় ঋণ গ্রহীতাদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ে আর কোনো বিকল্প উপায় নেই তাদের। কিন্তু তাদের কাছ থেকে ওই ঋণ আদায় করা বেশ জরুরী।কারণ বিপুল পরিমাণ মার্জিন ঋণে বেশির ভাগ মার্চেন্ট ব্যাংকের অবস্থা বেশ নাজুক।

চিঠিতে নিজস্ব পত্রকোষে (পোর্টফোলিও) বিনিয়োগের লোকসান এবং অনাদায়ী মার্জিন ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি রাখার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়। এর জন্য বেশ কয়েকটি প্রস্তাব করা হয় ওই চিঠিতে।