‘দুর্নীতি প্রতিরোধে সমন্বয় প্রয়োজন’

0
84
TIB-peter-igen
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. পিটার আইগেন ন (ছবি-খালেদুল কবির নয়ন)
TIB-peter-igen
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. পিটার আইগেন ন (ছবি-খালেদুল কবির নয়ন)

দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার, সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. পিটার আইগেন।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর বনানীতে সংস্থাটির বাংলাদেশ অফিসে আয়োজিত ‘মিট দ্য মিডিয়া’ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। টিআইয়ের এই প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

পিটার আইগেন বলেন, পৃথিবীর যে কোনো দেশেই মানুষের অধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার সবচেয়ে বড় ভুমিকা রাখে। তবে সরকারের পাশাপাশি প্রাইভেট খাত ও সামাজিক সংগঠন এখন এ ক্ষেত্রে অনেক বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এ তিনটি ধারার সমন্বয় করলে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা দ্রুত কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, এখনো পৃথিবীর ১০০ কোটি মানুষ দারিদ্র। আর ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত প্রায় ২০০ কোটি। সারাবিশ্বে প্রায় চার শতাধিক প্রতিষ্ঠিত এনজিও এ সেক্টরে কাজ করলেও সরকারি উদ্যোগ এবং ব্যক্তিখাতের সাথে তা সমন্বয় না হওয়ায় সংকট কাটছে না।

টিআইয়ের উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে সরকারি প্রচেষ্টার সাথে বেসরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক সংগঠনের সম্পর্ক কম। রানা প্লাজা ও তাজরীন গামের্ন্টস দুর্ঘটনার পর পোশাক মালিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ চলে এসেছে। শ্রমিকসহ পণ্য উৎপাদনে মালিক পক্ষের ব্যয় অনেক বেড়েছে। সে তুলনায় পণ্যের বাজারজাতকরণ ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মাঝে চাহিদা ও মূল্য বাড়েনি।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবির মুখে সরকার অনেক সময় মালিকদের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। কিন্তু মালিকদের জন্য ক্রেতা, বাজার ও সঠিক দাম নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে ভুমিকা রাখে না। ফলে কারো স্বার্থই সুরক্ষিত হয় না। তাই সরকার যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মালিক পক্ষ তথা ব্যক্তিখাত ও শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে নিয়োজিত সামাজিক সংগঠনের সমন্বয় করা হলে উভয়ই স্বার্থ সংরক্ষণ হবে।

এ সময় তিনি পোশাক শিল্পের শ্রমিক ও মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ‘দ্য গামের্ন্টস ইন্ডাট্রিজ ট্রান্সপারেন্সি ইনিশিয়েটিভ’ নামে একটি প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এটি আগামী এক বছরের মধ্যে সারাবিশ্বে পোশাক খাতে শিল্পে সুশাসন ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে বলে আশা করেন।

তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশ ও মায়ানমারের পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা ঘুরে দেখেছি। এখানে মালিক-শ্রমিকদের সাথে ক্রেতাদের সমন্বয়ই প্রধান সমস্যা।

অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সারা বিশ্বে ১১০টি টিআইয়ের কার্যক্রম রয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশে সংস্থাটির কার্যক্রম তুলনায় অনেক ভালো। এ দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারি মনোভাব ও নীতিমালা পরিবর্তনের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠনে টিআইবির ভুমিকা অনেক বড়।

এইউএন/এসবি