লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারে অনুমতি লাগবে না: স্পিকার

0
64
Latif
আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ফাইল ছবি

সংসদ সদস্যপদ থাকায় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারে স্পিকারের অনুমতির প্রয়োজন বলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মন্তব্য করলেও তার দরকার নেই বলে জানিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী নিজেই।

lotif_
লতিফ সিদ্দিকী-ফাইল ছবি

সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

স্পিকার বলেন, ‘সংসদ চত্বর থেকে কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে স্পিকারের অনুমতির বিষয়ে কার্যপ্রণালী বিধিতে সুস্পষ্ট বিধি রয়েছে। তবে সংসদ চলার সময় কোনো সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে আইনের বিধান রয়েছে, সেটি একজন সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে’।

সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে বলা আছে, ‘স্পিকারের অনুমতি ব্যতিরেকে সংসদের সীমার মধ্যে কাহাকেও গ্রেপ্তার করা হইবে না’।

সংসদ সীমার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সংসদ-কক্ষ, লবি, গ্যালারি এবং সাময়িকভাবে স্পিকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানসমূহ।

কার্যপ্রণালীতে আরো বলা হয়েছে, ‘কোনো সদস্য ফৌজদারি অভিযোগে বা অপরাধে গ্রেপ্তার হইলে কিংবা কোনো আদালত কর্তৃক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইলে বা কোনো নির্বাহী আদেশক্রমে আটক হইলে ক্ষেত্রমত গ্রেপ্তারকারী বা দণ্ডদানকারী বা আটককারী কর্তৃপক্ষ বা জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষ তৃতীয় তফসিলে প্রদত্ত যথাযথ ফরমে অনুরূপ গ্রেপ্তার, দণ্ডাজ্ঞা বা আটকের কারণ বর্ণনাপূর্বক অবিলম্বে অনুরূপ ঘটনা স্পিকারকে জানাইবেন’।

তবে ‘দ্যা ইস্ট পাকিস্তান অ্যাসেম্বলি মেম্বারস’ প্রিভিলেজেস অ্যাক্ট-১৯৬৫’ এ বলা হয়েছে, সংসদ অধিবেশন চলার সময় এবং অধিবেশন শুরুর সাতদিন আগে ও শেষের সাতদিন পরে কোনো সংসদ সদস্যের দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং রাজস্ব আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা নেই।

পাকিস্তান আমলে প্রণীত এই আইনটি এখনও কার্যকর বলে সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এর আগে আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে সত্য, তেমনি তিনি এখনো একজন সংসদ সদস্য সেটিও সত্য। স্পিকারের অনুমতি ছাড়া একজন সাংসদকে গ্রেপ্তার করা যায় না।

মন্ত্রিত্ব হারানো লতিফ সিদ্দিকী দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও এখনও দশম সংসদের সদস্য রয়েছেন। দশম সংসদের চতুর্থ অধিবেশন চলছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতির মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি হজ, তাবলীগ জামাত, প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাংবাদিকদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেন। তার পুরো বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

এই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ অক্টোবর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সাথে ওই দিন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের পদ থেকে এবং পরে গত ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও চূড়ান্তভাবে বহিষ্কৃত হন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

ওই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় মামলা হয়েছে। কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি রয়েছে। গত রাতে লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফেরেন।

এদিকে, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আগামীকাল বুধবারের মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে বৃহস্পতিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের হুমকি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। একই কারণে লতিফ সিদ্দিকীকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করার জন্য সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত।

ইউএম/